যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ (৩৬ জুলাই)। এ উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা, শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মাননা বা ক্রেস্ট প্রদান এবং শিশুদের প্রতিযোগিতা সমাপন শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে অবস্থিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান। এরপর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পুষ্প স্তবক অর্পণ করেন। পরে একে একে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধানগণ পুষ্প স্তবক অর্পণ করেন।
এরপর কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ আলোচনা সভা এবং ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদ বিন-হাসান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (পিপিএম-বার), কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. কুতুবউদ্দিন আহমেদ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলার সাবেক সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়াদ্দার।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, গণ অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়ক ও প্রতিনিধিগণসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধারা গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন। বক্তব্য রাখেন শহীদ পরিবারের পক্ষে সীমা খাতুন ও সুজন ফরাজী এবং আহত গণযোদ্ধাদের পক্ষে উল্লাস হোসেন, মনিরুজ্জামান ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভা বেলা ১১টার সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। ক্রেস্ট গ্রহণ করেন শহীদ উসামার পরিবার, শহীদ সালাউদ্দিনের পরিবার, শহীদ সবুজের পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের পক্ষে রুম্পা খাতুন ও মো: জনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জেলা শিশু একাডেমি, কুষ্টিয়া কর্তৃক আয়োজিত চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। তিনটি বিভাগে (ক, খ, গ) অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতাগুলোর সফল বিজয়ীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন।
দুপুরের পর বাদ জোহর ও সুবিধা অনুযায়ী সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় জেলার সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
এছাড়া সুবিধাজনক সময়ে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্রিক আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধাবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ ও সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









