নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংঘর্ষের পর ছাত্রাবাসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ৮ টায় সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির জেলা, মহানগর ও সরকারি তোলারাম কলেজ শাখার নেতারা এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের সভাপতিকে বরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর কিছু সময় পর বিকেল প্রায় ৫টার দিকে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি কলেজ ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের কক্ষে হামলা, ভাঙচুর ও তল্লাশি চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এ ঘটনায় ছাত্রশক্তির দুই সমর্থকসহ পাঁচ শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হন। হামলাকারীরা স্টাম্প, রড, বেল্ট ও কাঠের চেয়ার দিয়ে তাদের মারধর করে। একই সঙ্গে কয়েকটি কক্ষ থেকে আইফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ট্যাব, মোবাইল ফোন, নগদ অর্থসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয় এবং আরও প্রায় ২ লাখ টাকার সম্পদ ভাঙচুরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা বলেন, এটি শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, জড়িতদের কলেজ থেকে বহিষ্কার ও আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহন, ক্ষতিপূরণ প্রদান, লুট হওয়া মালামাল ফেরত, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দ্রুত ছাত্রাবাস খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তি দাবি করে, এ সংঘর্ষে তাদের কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিল না। একই সঙ্গে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের প্রতি সহিংসতা পরিহার করে সংলাপ, সহাবস্থান ও সম্প্রীতির রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









