সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকার আগে জানিয়েছিল যে ভারত শেখ হাসিনাকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে দেবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই আশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়নি। তার মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করে ভারত সরকারকে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে রাজি করানোর পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম প্রচার করেছে। অথচ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধসংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে এমন প্রচার হওয়া উচিত ছিল না।
এনসিপির মুখপাত্র প্রশ্ন তোলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত গণমাধ্যমগুলো কীভাবে এ ধরনের প্রচার চালিয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকার কেন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকার এ ঘটনায় একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কূটনৈতিক ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে এনসিপির প্রত্যাশা ছিল আরও কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্কবার্তা দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই রাজনৈতিক ও নৈতিক উভয় দিক থেকেই সেই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। অন্যথায় সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার দাবি, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বিচার শেষে সম্ভাব্য জাতীয় পুনর্মিলনের (রিকনসিলিয়েশন) পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি একইভাবে চলতে থাকলে পুনর্মিলনের সম্ভাবনার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে সাকিবের উপস্থিতির মাধ্যমে এ বিষয়ে চলমান বিতর্কের অবসান হয়েছে।
এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কয়েকজন কর্মকর্তাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









