শুক্রবার সকালে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু পথেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সিলেটের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় তার ছোট মেয়ে জাইফা। আর গুরুতর আহত হন জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী নুরুন নাহার। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের ওয়ার্ডে আহত বাবা-মায়ের শয্যার পাশে নির্বাক হয়ে বসে আছে তাদের বড় মেয়ে জান্নাতুল ও ছোট ছেলে মোহাম্মদ। একদিকে ছোট বোনকে হারানোর শোক অন্যদিকে বাবা-মায়ের অনিশ্চিত শারীরিক অবস্থা সব মিলিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে দুই ভাইবোন।
প্রতিবেশীরা জানান, ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর গাড়ির টায়ারের ব্যবসা করেন। সেই সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল এলাকায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি। শুক্রবার সকালে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে রওনা হন। কিন্তু ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তেই এলোমেলো হয়ে যায় তাদের জীবন।
মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমের ছোট মেয়ে জাইফার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী নুরুন নাহার।
আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীরের স্বজনরা তাকে ঘিরে আছেন। অচেতন জাহাঙ্গীর কোনো কথা বলতে পারছেন না। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ১৬ বছর বয়সী জান্নাতুল কান্নাজড়িত কণ্ঠে দুর্ঘটনার বর্ণনা দেয়।
সে বলে, গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে আমরা সবাই ইউনিক বাসে উঠি। আমি আর আমার ভাই বাসের বাম পাশে বসেছিলাম। বাবা-মা ছোট বোন জাইফাকে নিয়ে ডান পাশে ছিলেন। হঠাৎ দেখি একটি মোটরসাইকেল বাসের সামনে এদিক-ওদিক চলাচল করছে। এরপর কী হয়েছে, ঠিক মনে নেই। শুধু মনে আছে, বিকট শব্দ হয়েছিল। তারপর আর কিছু বলতে পারি না।
জান্নাতুলের প্রতিবেশী সামিয়া বেগম জানান, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে চণ্ডিপুল এলাকায় গাড়ির টায়ারের ব্যবসা করেন। শুক্রবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথেই এই দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ শুক্রবার সকাল ৭টা ১০মিনিটের দিকে ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর এদিনকে বলেন, ‘‘হাসপাতালে আহত অবস্থায় ১৬ জনকে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









