গ্রামাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়েই সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুসেবা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বরিশাল নগরীর একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাল্টি-সেক্টরাল অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
ডা. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হতে বাধ্য না হন, সে লক্ষ্যেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট গড়ে তোলা গেলে গ্রামের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করা হবে।’’
সভায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), এইচপিভি টিকাদান এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপেন এসআরপি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান অতিথি বলেন, ‘‘এর মাধ্যমে একজন নাগরিকের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য একটি নিরাপদ ও সমন্বিত ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে দেশের যেকোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে গেলে রোগীর পূর্ববর্তী স্বাস্থ্যতথ্য সহজে পাওয়া যাবে। এতে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও কার্যকর চিকিৎসা দেওয়ার পথও সুগম হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘সরকার বর্তমানে শুধু রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার ওপর নির্ভরশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা অধিক কার্যকর।’’
এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি পরিবারের কাছে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুসেবা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না; স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি, কার্যকর তদারকি এবং জনগণের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’’
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক আবদুর রাজ্জাক।
সভায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









