নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে তার মা-বাবার সহযোগীতায় রংপুর থেকে আটক করা হয়েছে। অপরাধ সংশোধনের জন্য তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হবে বলে সোনারগাঁ পুলিশ সুত্রে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি সোনারগাঁ থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ওই ভিডিওটির ভুক্তভোগী সোনারগাঁর কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় নিযার্তনের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে টিসি দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ দিকে স্কুল ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার জেরে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষের।
তবে ওই শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার। তিনি জানিয়েছেন, দুই শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বাইরে অবস্থান করে। তাদের পরিবারকে সন্তানরা ভবিষ্যতে এমন করলে চিঠির মাধ্যমে টিসি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুরের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুল ড্রেস পড়া দুই ছাত্রী হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় বখাটে এক কিশোর পেছন থেকে এক ছাত্রীকে লাথি মারে। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে তাকে পেছন থেকে আবার উড়ন্ত লাথি মারে ছেলেটি। এ সময় কেউ একজন মোবাইলে ভিডিওটি ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত সাড়ে ১১ বছর বয়সী দিলসাদ হোসেন কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার লিটন খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার বাবা সাফিউল ইসলাম পেশায় রিকশাচালক ও মা মোছাম্মদ দুলালী গার্মেন্টকর্মী।
নির্যাতনের শিকার স্কুল ছাত্রীর বাবা কাঁচপুরের একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। তার মা হাজেরা বেগম অসুস্থ।
ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা জানান, তার মেয়েকে লাথি মারার ভাইরাল ভিডিওটি এক মাস আগের। তিনি বলেন, স্কুল চলাকালীন সময় স্কুলের বাইরে ঘোরাফেরার করায় স্কুলের স্যারেরা বিচার করে তার মেয়েকে টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে।
তিনি আরও বললেন, আমরা গরীব মানুষ। কাজ কর্ম করে খাই। এখন এই স্কুলে পড়াতে পারব না। মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করতে হবে।
কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার জানান, বিভিন্ন সময়ে দুই শিক্ষার্থী স্কুলে না এসে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘোরাঘুরি করে। তবে দুই শিক্ষার্থীকে একাধিকবার মৌখিক সতর্ক করা হলেও তারা শোনেনি। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ভবিষ্যৎতে এমন করলে তাদের টিসি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে তাদের বহিষ্কার করা হয়নি। ঘটনাটি স্কুলের বাইরে তাই স্থানীয় লোকজন ছেলে ও ছাত্রীদের বিচার করেছে শুনেছি।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “ভাইরাল ভিডিও আমাদের নজরে আসার পর অভিযুক্ত কিশোরকে রংপুর থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে সমাজ সেবা কর্মকর্তার জিম্মায় কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









