বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘তারাসকন স্টেজকোচ’ এবার নিউইয়র্কে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। ১৮৮৮ সালের অক্টোবরে আঁকা এই চিত্রকর্মটি ভ্যান গঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
হেনরি ও রোজ পার্লম্যান ফাউন্ডেশনের দান করা ৬৩টি শিল্পকর্মের মধ্যে ‘তারাসকন স্টেজকোচ’ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। এসব শিল্পকর্ম যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘরে দেওয়া হয়েছে। ভ্যান গঘের ছবিটি দেওয়া হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মিউজিয়াম অব আর্টে।
চিত্রকর্মটি বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন মিউজিয়ামে যাবে। সেখানে ২ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ‘সেজান থেকে মোদিগ্লিয়ানি: পার্লম্যান সংগ্রহ থেকে আধুনিক শিল্পের উপহার’ প্রদর্শনীতে এটি থাকবে। পরে ২০২৭ সালে ছবিটি নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টে প্রদর্শিত হবে।
‘তারাসকন স্টেজকোচ’ ভ্যান গঘ এঁকেছিলেন ফ্রান্সের আরল শহরে। ছবিতে দেখা যায়, শহরের দুর্গপ্রাচীর ঘেরা একটি সড়কের পাশে ঘোড়ায় টানা একটি স্টেজকোচ। এই গাড়ি নিয়মিতভাবে আরল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের তারাসকন শহরের উদ্দেশে যাত্রা করত।
ভ্যান গঘ নিজেও এমন একটি গাড়িতে করে তারাসকনে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। ছবিটি আঁকার সময় তিনি এর উজ্জ্বল রং নিয়ে ভাই থিওকে চিঠিতে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। ছবিতে সবুজ, লাল, হলুদ, নীল ও কমলা রঙের ব্যবহার বিশেষভাবে চোখে পড়ে। মাঝখানে থাকা ‘সার্ভিস ডি তারাসকন’ লেখা লাল সাইনবোর্ডটিও ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ।

১৮৮৮ সালে ছবিটি আঁকার পর ভ্যান গঘ তাঁর ভাইকে জানিয়েছিলেন, এটি আঁকতে গিয়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। ছবিটি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন এবং পরে এর একটি অনুলিপি আঁকার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। তবে সেটি আর করা হয়নি।
চিত্রকর্মটির দীর্ঘ ইতিহাসও বেশ আকর্ষণীয়। ১৮৯৫ সালে এটি উরুগুয়ের শিল্পী মিলো বেরেত্তার কাছে যায়। এভাবেই ‘তারাসকন স্টেজকোচ’ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছানো প্রথম ভ্যান গঘের ছবিতে পরিণত হয়।
১৯৫০ সালে মার্কিন শিল্পসংগ্রাহক হেনরি পার্লম্যান ছবিটি কিনে নেন। তার মৃত্যুর পর তার সংগ্রহ পার্লম্যান ফাউন্ডেশনের অধীনে যায়। প্রায় ৫০ বছর প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি আর্ট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত থাকার পর এবার সংগ্রহের ৬৩টি শিল্পকর্ম তিনটি মার্কিন জাদুঘরে স্থায়ীভাবে যুক্ত হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









