কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামকে নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে টেকনাফ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে আব্দুল কাইয়ুমকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকে আব্দুল কাইয়ুম রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যকে উদ্দেশ করে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করেছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
এ কারণে তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সামনে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে টেকনাফ পৌর বিএনপির আওতাধীন ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামকে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুবদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম।
ওই বক্তব্যে তিনি টেকনাফের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমান প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, একটা কনস্টেবলের মতোও লাগে না ওসিকে। আমার তো মনে হয় না, এই ওসি দিয়ে টেকনাফের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে টেকনাফে সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রতি প্রশাসনে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান আব্দুল কাইয়ুম।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি এখানে জনসেবা দিতে এসেছি। কারও সঙ্গে আমার শত্রুতা নেই। উনি কেন এসব কথা বলেছেন, আমি জানি না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, “অপহরণ, টাকা লুটসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নোটিশের পর আব্দুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে কী ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তার দেওয়া ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









