শিল্পকলা ও সাহিত্য বহুদিন ধরেই একে অন্যকে প্রভাবিত করে আসছে। চলতি গ্রীষ্মে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি নতুন উপন্যাসে সেই সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চিত্রকলা, শিল্পীর জীবন ও শিল্পের ইতিহাসকে অবলম্বন করে লেখকেরা তৈরি করেছেন নতুন গল্প ও চরিত্র।
এর মধ্যে অ্যালেক্স হাইডের ‘এক্সিবিশন’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৯০-এর দশকের লন্ডনের ‘ইয়াং ব্রিটিশ আর্টিস্টস’ বা ওয়াইবিএ আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা এই উপন্যাসে শিল্প, সম্পর্ক, মালিকানা ও সৃষ্টির মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উপন্যাসটি লেখার সময় হাইড ব্রিটিশ শিল্পী ট্রেসি এমিনের প্রাথমিক সময়ের মনোপ্রিন্ট দেখতে টেট ব্রিটেনে নিয়মিত যেতেন। তিনি শিল্পকর্মগুলোর সামনে বসে লিখতেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর লেখার সঙ্গে ছবিগুলোর অনুভূতি মিশে যায়।

রেবেকা বিরেলের ‘ভেনাস, ভেনেশিং’ উপন্যাসের পেছনেও রয়েছে শিল্পের গভীর প্রভাব। ১৯৩০-এর দশকের বার্লিনে এক তরুণ ইহুদি নারী শিল্পীর জীবনকে কেন্দ্র করে লেখা বইটির প্রধান চরিত্র হান্না। বিরেল আগে শিল্প-ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করতেন এবং ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকের হারিয়ে যাওয়া ইহুদি নারী শিল্পীদের জীবন নিয়ে কাজ করেছিলেন। তাঁদের অনেকের শিল্পকর্ম ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাঁদের জীবন সম্পর্কে তথ্যও খুব কম পাওয়া যায়।
শিল্পকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনার এই প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়। বালজাক, জোলা ও প্রুস্তের মতো ঊনবিংশ শতকের লেখকেরাও শিল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন। ট্রেসি শেভালিয়েরের ‘গার্ল ইউথ এ পার্ল ইয়াররিং’ এবং ডোনা টার্টের ‘দ্যা গোল্ডফিনচ’একটি নির্দিষ্ট শিল্পকর্মকে কেন্দ্র করে লেখা বিখ্যাত উপন্যাসের উদাহরণ।
আজও লেখকেরা শিল্পকে শুধু গল্পের বিষয় হিসেবে নয়, বরং সৃষ্টির সূচনা ও কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাঁদের কাছে একটি ছবি কখনো চরিত্রের জন্ম দেয়, কখনো ইতিহাসকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করে, আবার কখনো লেখার ভেতরে নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









