বর্ষার পানিতে নতুন রূপে সেজেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিকশি বিল। বিস্তীর্ণ জলরাশির বুকজুড়ে ফুটেছে সারি সারি গোলাপি পদ্ম। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে বিছিয়ে আছে গোলাপি রঙের বিশাল চাদর। পদ্মের সঙ্গে সবুজ পাতা, নীল আকাশ আর মেঘের মিতালিতে বিলটি এখন পরিণত হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধারে।
চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের এই বিলে প্রতিদিন স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন পদ্মের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কেউ নৌকায় ঘুরছেন, কেউ তুলছেন ছবি ও সেলফি। সকালের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মের রং ও বিলের সৌন্দর্য যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিলপাড়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই অনেক দোকানীরই পসরা সাজিয়ে বসে আছে। মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে সকাল থেকেই লোকজন আনাগোনা করছে। বিলের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে অসংখ্য পদ্ম ফুটে আছে। আশপাশের গ্রামের শিশু-কিশোরদের কেউ পদ্ম ফুল তুলছে, আবার কেউ নৌকা নিয়ে বিলের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিলের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে থাকা সেতুগুলোও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
বিলপাড়ের পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শামীম আহমেদ বলেন, “এবার বিলে প্রচুর পদ্ম ফুটেছে। এলাকার মানুষ পদ্ম তুলে বিক্রিও করছে। তবে বিলে অসংখ্য চায়না দুয়ারি জাল পাতা হয়। এতে পদ্মসহ বিলের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

ডিকশি বিলে ঘুরতে আসা আটঘরিয়া উপজেলার ফৈলজনা ইউনিয়নের মাসুদ পারভেজ বলেন, “গ্রামের মধ্যে এত সুন্দর একটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে, তা অনেকেই জানেন না। তবে এখানে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা খুবই অপ্রতুল। সরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে জায়গাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
স্থানীয় বাসিন্দা করিম মন্ডল বলেন, প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বিলে ঘুরতে আসেন। কেউ ছবি তোলেন, কেউ নৌকায় ঘোরেন, আবার কেউ পদ্ম ফুল তুলে নিয়ে যান। তাঁরও অভিযোগ, চায়না দুয়ারি জালের কারণে বিলের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এস এম মিজানুর রহমান বলেন, শুধু ডিকশি বিলের জীববৈচিত্র্য নয়, গোটা চলনবিলকে রক্ষায় গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। বর্ষায় ডিকশি বিলের সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে যায়। এই বিলের পদ্ম ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা জরুরি।
চলনবিল রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, ডিকশি বিলের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। বিলের পদ্ম, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন।
চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, “ইতিমধ্যে ডিকশি বিলে অভিযান চালিয়ে চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে। বিলের মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা কাজ করছি।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সেজে ওঠা ডিকশি বিল এখন শুধু স্থানীয়দের নয়, দূর-দূরান্তের মানুষেরও আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তবে পদ্মের এই অপরূপ সৌন্দর্য ও বিলের জীববৈচিত্র্য ধরে রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, অবৈধ জাল বন্ধ এবং পরিকল্পিত পর্যটনব্যবস্থা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন








