মাদারীপুরের নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে নদীতীরের মানুষ। নদী রক্ষা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এবার রাতের আঁধার ভেঙে হাতে মশাল নিয়ে রাজপথে নেমেছেন স্থানীয়রা। ‘নদী বাঁচাও, মাদারীপুর বাঁচাও’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত মশাল মিছিল থেকে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে অনুষ্ঠিত মশাল মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মিছিলের সামনে ছিল বড় ব্যানার, আর অংশগ্রহণকারীদের হাতে জ্বলছিল মশাল। পুরো কর্মসূচিতে নদী ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠে আসে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন নদীতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র প্রকাশ্যে বা গোপনে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এতে নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তীব্র নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
কোথাও কোথাও নদীতীর, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়ছে। প্রশ্ন উঠেছে এত বড় পরিসরে বালু উত্তোলন কি প্রশাসনের অগোচরে? নাকি দেখেও না দেখার ভান করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?
স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে ড্রেজার চালিয়ে বালু তোলার অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা না নেওয়ায় বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অভিযানের খবর আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ফলে প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবারও একই জায়গায় শুরু হয় বালু উত্তোলন এমন অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা বলেন, নদী রক্ষার দায়িত্ব শুধু কাগজে-কলমে অভিযান চালানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ড্রেজার মালিক, বালু পরিবহনকারী এবং এর পেছনে থাকা প্রভাবশালী মদদদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তাদের ভাষ্য, নদী ধ্বংস করে কারও ব্যক্তিগত পকেট ভারী করার সুযোগ দেওয়া হবে না। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন ব্যর্থ হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মশাল মিছিল থেকে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা ও নিয়মিত নদী এলাকায় নজরদারি জোরদারের দাবি জানানো হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন নদী ভাঙনে যখন মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে, তখন কার স্বার্থে নদীর বুক চিরে বালু উত্তোলন চলছে? প্রশাসনের চোখের সামনে যদি এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকে, তাহলে নদী রক্ষার সরকারি উদ্যোগ কতটা কার্যকর এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নদী বাঁচাতে এবার শুধু মানববন্ধন বা মিছিল নয় । প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। নদী রক্ষার দাবিতে জনগণের এই ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









