সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে জমিজমা নিয়ে শত্রুতার জেরে সংঘটিত তরিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে তাদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই ঐতিহাসিক রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, রায়গঞ্জ উপজেলার গ্রাম পাঙ্গাসী গ্রামের আব্দুল মান্নান একই গ্রামের হীরা মিয়া। সলঙ্গা থানার বোয়ালিয়ার চর এলাকার রফিকুল ইসলাম, সলঙ্গা থানার বোয়ালিয়ার চর এলাকার আব্দুল মজিদ। এ মামলায়, বিচার চলাকালেই আসামি আব্দুল মজিদ মৃত্যুবরণ করেছেন।
মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামচুজ্জোহা শাহানশাহ্র বরাতে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩০ আগস্ট জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে রায়গঞ্জের সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। বর্বরোচিত এই হামলায় গুরুতর আহত তরিকুল ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
ঘটনার পর নিহত তরিকুলের ভাই আব্দুল মন্নাফ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।
সুদীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ১৪ জন আসামির সাক্ষ্যগ্রহণ ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়। এতে চারজনের বিরুদ্ধে তরিকুলকে হত্যার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। অন্যদিকে, বাকি ১০ আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের মামলা থেকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচারিক সমাপ্তি ঘটল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









