ম্যাচ শুরুর আগেই প্রতিবাদের ভাষা ঠিক করে রেখেছিল আয়ারল্যান্ড। ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় মাথা নত করে দাঁড়িয়ে রইলেন আইরিশ খেলোয়াড়েরা। হাতে কালো আর্মব্যান্ড। ম্যাচ শুরুর আগে হলো না দুই দলের ঐতিহ্যবাহী করমর্দন, অধিনায়কেরাও বিনিময় করলেন না পেন্যান্ট। এরপর মাঠে নেমে গোলের পর গোল করে ইসরায়েলকে হারাল আয়ারল্যান্ড। উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচটি তারা জিতেছে ৩-০ গোলে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে ম্যাচটি যতটা না ছিল শুধু ফুটবলের, তার চেয়ে বেশি হয়ে উঠেছিল গাজা যুদ্ধ নিয়ে প্রতিবাদের মঞ্চ। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে আয়ারল্যান্ডে আগে থেকেই ছিল তীব্র আলোচনা। ম্যাচ বয়কটের দাবিও উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত মাঠে নামলেও আইরিশ খেলোয়াড়েরা প্রতীকী প্রতিবাদের পথ বেছে নেন।
ইসরায়েলের জাতীয় সংগীতের সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা। গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে তারা পরেছিলেন কালো আর্মব্যান্ড। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে জার্সি বিনিময়ও হয়নি।
প্রতিবাদের আবহ অবশ্য মাঠের খেলায় কোনো ছাপ ফেলতে পারেনি আয়ারল্যান্ডের ওপর। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে তারা। প্রথম ২৫ মিনিটেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় আইরিশরা। ম্যাচের তৃতীয় গোলটি করা জ্যাক ময়লান গোলের পর কালো আর্মব্যান্ড খুলে তাতে চুমু খান। এরপর সেটি উঁচু করে ধরে গাজার প্রতি সংহতির বার্তা দেন।
ম্যাচটির আগে আয়ারল্যান্ডের দলেও ছিল অস্বস্তি। কোচ হেইমির হালগ্রিমসন জানিয়েছিলেন, দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে ‘খুব অস্বস্তি’ বোধ করছেন। গাজা যুদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, তার দল ‘গণহত্যার বিরুদ্ধে’ খেলছে।

আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু শেষ পর্যন্ত ম্যাচটিতে খেলেননি। নিরীহ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে তিনি এই ম্যাচ এবং পরের ফিরতি ম্যাচ থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেন।
মাঠে প্রতিবাদ, এরপর দাপুটে জয়—দুই দিক থেকেই ম্যাচটি আয়ারল্যান্ডের জন্য হয়ে থাকল আলাদা। তবে ফুটবলের ফলের বাইরে আলোচনার বড় অংশজুড়ে থাকল গাজা নিয়ে আইরিশ খেলোয়াড়দের অবস্থান।
দুই দলের ফিরতি ম্যাচ ৪ অক্টোবর। আয়ারল্যান্ডের হোম ম্যাচটি ডাবলিন থেকে সরিয়ে সার্বিয়ার বাক্কা তোপোলায় নেওয়া হয়েছে। ম্যাচটি হবে দর্শকশূন্য মাঠে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









