যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই দেশের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার করে আমদানি পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় থাকা প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যে ‘মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন’ (এমএফএন) হার কার্যকর হবে। দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনার পর এ সমঝোতাকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের বৈঠকে এ সমঝোতা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (এমওএফকম) বিষয়টি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় চীন থেকে আমদানি করা ১ হাজার ৬০০টির বেশি পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে প্লেট, রান্নাঘরের সামগ্রী, বিছানা ও টেবিলের চাদর, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ছোট বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, খেলনা, ক্রীড়াসামগ্রী ও শিশুদের পণ্য রয়েছে।
অন্যদিকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৭ শ্রেণির পণ্যে শুল্ক কমাবে। তালিকায় রয়েছে গরু ও ভেড়ার মাংস, হাঁস-মুরগি, সামুদ্রিক খাবার, দুগ্ধজাত পণ্য, গম, ভুট্টা, চাল, কয়লা, কাঠ, ফল, সবজি, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন কৃষি, জ্বালানি ও শিল্পপণ্য।
নিজ নিজ দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর একই সময়ে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, চীনের সঙ্গে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। কৃষি ও জ্বালানি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ব্যবস্থা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট চীনা পণ্য রপ্তানির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
শুল্ক কমানোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ করতে একটি বাণিজ্য পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিনিয়োগ পরিষদ ও কৃষি বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করবে দুই দেশ। কৃষি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক চলতি বছরের শেষ নাগাদ হওয়ার কথা রয়েছে। আর্থিক সেবা খাত নিয়েও দুই দেশ নীতিগতভাবে সমঝোতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে নতুন সংলাপ কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এআই-সংক্রান্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি বা ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগের জন্য আলাদা একটি চ্যানেলও চালু করা হবে।
নতুন গঠিত ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অব ট্রেড’-এর কার্যপদ্ধতিও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় দুই দেশের কর্মকর্তারা অন্তত প্রতি তিন মাসে একবার বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে শুল্ক কমানোর নতুন প্রস্তাব ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সমঝোতার আওতায় চীনে যুক্তরাষ্ট্রের কয়লা রপ্তানিও রয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়লা আমদানি সহজ করতে এ ব্যবস্থা সহায়ক হবে।
দীর্ঘদিনের পাল্টাপাল্টি শুল্ক ও বাণিজ্য বিরোধের পর নতুন এ সমঝোতা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে উভয় দেশকেই নিজ নিজ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









