পাবনা শহরের ব্যস্ততম আব্দুল হামিদ রোডে যানবাহনের চাপ, ফুটপাত দখল, যত্রতত্র পার্কিং ও সড়কের ওপর পণ্য রাখার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা। প্রায় ২০ ধরনের যানবাহনের চলাচলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ফুটপাত দখল থাকায় বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় পথচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। দোকানের মালামাল, ভ্যান ও বিভিন্ন পসরা বসানো থাকায় আমাদের মূল সড়ক দিয়ে চলতে হয়। এতে একদিকে যেমন যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন দোকানের সামনে মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসছেন। পাশাপাশি দোকানের মালামাল সড়কের পাশে রাখা এবং যত্রতত্র মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ছে সড়ক। এতে যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয় দোকানি হানিফ উদ্দিন বলেন, দোকানের সামনে জায়গা কম থাকায় অনেক সময় মালামাল বাইরে রাখতে হয়। তবে এতে পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। সবাই মিলে নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আব্দুল হামিদ রোডে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেল, পণ্যবাহী গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপ রয়েছে। এর সঙ্গে মানববন্ধন, মিছিল, পথসভা ও সমাবেশ হলে যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়। তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিশু, নারী, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের।
আরেক পথচারী সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। ফুটপাত দখলমুক্ত করা গেলে অন্তত পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং সড়কের ওপর চাপও কিছুটা কমবে।
বেনিয়াপট্টি এলাকাতেও একই চিত্র। পাঁচমাথা মোড় থেকে চেম্বার অব কমার্স ভবন হয়ে খলিফাপট্টি মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল রাখায় চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এ আর প্লাজা ও এ আর কর্নার মার্কেটের সামনেও দীর্ঘ সময় মোটরসাইকেল রাখার অভিযোগ রয়েছে।
পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের পাশ দিয়ে রবিউল মার্কেটমুখী সড়কের ডায়াবেটিস হাসপাতালসংলগ্ন মোড়ে অটোবাইক চালকেরা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। একই সমস্যা দেখা যায় রবিউল মার্কেটসংলগ্ন অ্যাডভোকেট মাসুদ কমপ্লেক্সের মোড়েও। আশপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার থাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এ পথ ব্যবহার করে।
সদর ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। তবে অতিরিক্ত যানবাহন, যত্রতত্র পার্কিং ও সড়কের ওপর পণ্য ওঠানামার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়। ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা বা পণ্য রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও তদারকির মাধ্যমে ফুটপাত দখল, সড়কে পণ্য রাখা এবং যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করতে হবে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে আব্দুল হামিদ রোডসহ বেনিয়াপট্টি ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে যানজট কমার পাশাপাশি পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলও নিশ্চিত হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









