মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ে চলে আসা একটি লজ্জাবতী বানরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তির বলাই রবিদাসের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, একটি গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার সময় লজ্জাবতী বানরটি মাটিতে নেমে আসে। বানরটিকে দেখতে পেয়ে সেখানে থাকা শিশুরা চিৎকার শুরু করে।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল রবিদাস বানরটিকে দেখতে পেয়ে বাঁশের ঝাঁকি দিয়ে আটক করে রাখেন। বিষয়টি তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে যান। তারা লজ্জাবতী বানরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।
উদ্ধার করা বানরটি শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
স্বপন দেব বলেন, খাদ্যের অভাব ও আবাসস্থলের সংকটের কারণে প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসছে, যা বন্য প্রাণীদের জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা প্রাণীটিকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করেছি। বন বিভাগ প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যেবক্ষণের পর উপযুক্ত পরিবেশে প্রাণীটিকে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা করবে।
লজ্জাবতী বানর দেশের অতি বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় আছে জানিয়ে স্বপন দেব আরও বলেন লজ্জাবতী বানর নিশাচর এবং উঁচু গাছে বাস করে। এরা সাধারণত একা বা জোড়ায় ঘুরে বেড়ায়। গাছের ডালে এরা ধীরগতিতে চলাচল করে।
লজ্জাবতী বানর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রাকৃতিক সম্পদের লীলাভূমি হিসেবে শ্রীমঙ্গলের সুনাম রয়েছে দেশ-বিদেশে। পাহাড়, জঙ্গল, বনাঞ্চল, হাওর ও বিস্তীর্ণ চা-বাগানে ঘেরা এ উপজেলার পাশেই রয়েছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। পাহাড়-টিলা ও বনজঙ্গলে সমৃদ্ধ হওয়ায় শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী ও পাখির বিচরণ রয়েছে।
প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অজগর, বিষধর ও বিষহীন সাপসহ নানা ধরনের বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে আসার খবর পাওয়া যায়। এসব খবর পেলে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করেন। পরে সেগুলো বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে উপযুক্ত পরিবেশে বন্য প্রাণীগুলোকে আবারও বনে অবমুক্ত করা যায়।
বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও নিরাপদে বনাঞ্চলে অবমুক্ত করার এ ধরনের উদ্যোগ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









