সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁও গ্রামে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব ও ওসমানীনগর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউনয়ন সহ-সভাপতি জরিফ হোসেন আছান খাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার এস.আই আব্দুল কাদির।
সিকন্দরপুর পশ্চিম গাঁও নিজ বাড়িতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব ও ওসমানীনগর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সিকন্দরপুর গ্রামে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে ঘিরে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, গুলিবর্ষণ ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উমরপুর ইউনিয়ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও প্রভাবশালী নেতা জরিফ হোসেন ওরফে আছান খাঁ এবং তার ভাই, ওয়ার্ড সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাজী নুর হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং একাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ গত ২১ জুলাই একই গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আক্তার হোসেন ও ওয়াহিদুর হোসেনের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ২৭ জুলাই এমরান হোনের পুত্র ওয়াহিদুর রহমান বাদি হয়ে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জরিফ হোসেন আছান খাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত জুলাই মাসে লন্ডনে সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে আছান খাঁ দেশে ফেরার পর এলাকায় আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া এবং বিভিন্ন বাড়িতে হামলা, লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। চলতি মাসেও আছান খাঁর নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘‘আছান খাঁকে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









