ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে নির্যাতনের পর বিষ খাইয়ে ইউসুফ আলী শেখ (৫৫) নামে এক কৃষককে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরহাজিগঞ্জ গাবতলা মোড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নারী-পুরুষসহ দুই শতাধিক এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। পরে তারা ফরিদপুর-চরভদ্রাসন আঞ্চলিক সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
তাদের অভিযোগ, ঘটনার পরেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও অন্যদের গ্রেপ্তার নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে পুলিশ। এছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নিখোঁজ নারীকে দ্রুত উদ্ধার করে জনসম্মুখে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ সময় চরহাজিগঞ্জ বাজার বনিক সমিতির সভাপতি কবিরুল আলম বলেন, ‘‘আমাদের এই এলাকায় আগে কোনো খুন-খারাবি হয়নি। দুঃখজনকভাবে একজন নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। মারা যাওয়ার আগে তিনি কয়েকজনের নাম বলে গিয়েছে, তাদের মধ্যে পুলিশ মাত্র চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা চাই- দ্রুত বাকিদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং জড়িতদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক তা যেন এই এলাকার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’’
স্থানীয়রা জানান, ইউসুফ আলী শেখ হত্যার প্রায় এক মাস আগে আসামি শামীমের মা আসমা বেগম নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফসহ ৬ থেকে ৭ জনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর জের ধরে কয়েকদিন পরেই ইউসুফকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়। তিনি মারা যাওয়ার আগে ওই নারীর ছেলে শামীম ও মেয়ে ইয়াছমিনসহ ৭ থেকে ৮ জনের নাম বলে যায়। পরবর্তীতে তাদের নামে মামলা হলেও পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরপর প্রায় দেড় মাস হয়ে গেলেও বাকিদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় ইউসুফ আলী শেখকে ডেকে নিয়ে দুর্গম চর এলাকায় নির্যাতন করা হয় এবং তাকে বিষ খাইয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ আগস্ট ভোরে মৃত্যু হয়। সে চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। মারা যাওয়ার পূর্বে তিনি একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে জড়িতদের নাম বলে যান।
এ ঘটনায় রাতেই নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তাদের মধ্যে রয়েছে সত্তার শেখের ছেলে শামীম হোসেন (২৫) ও মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার (৩৪), পার্শ্ববর্তী ওকেল মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকার আক্কাস মোল্যা (৬০) ও ছেলে জুলহাস মোল্যা (৩৫)।
এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হক বলেন, ‘‘বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের প্রচেষ্টা চলছে এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’’ এছাড়া নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে পুলিশের অন্য একটি টিম কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









