ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্ন রূপ নিল চরম ট্রাজেডিতে। লিবিয়া উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা। এতে ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও শারীরিক অসুস্থতায় ভূমধ্যসাগরে ১১ জন বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৮ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এই ঘটনায় নিখোঁজদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার অন্তত ৭ জন তরুণ রয়েছেন বলে তাদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৪২ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের মধ্যে ৩৮ জন বাংলাদেশী এবং ৪ জন সুদানীয় নাগরিক ছিলেন।
মিসরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম এক ভিডিও বার্তায় ঘটনার আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক বর্ণনা দেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। একই সাথে সঙ্গে থাকা খাবার ও সুপেয় পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়।
ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় একটানা ১১ দিন সাগরে ভাসতে থাকেন তারা। খাদ্যাভাব ও তীব্র পানিশূন্যতায় চোখের সামনে একে একে ১১ জন বাংলাদেশী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বাধ্য হয়ে মৃতদেহগুলো সাগরে ভাসিয়ে দিতে হয়। দীর্ঘদিন সাগরের লবণাক্ত পানিতে ভেসে থাকার কারণে বেঁচে থাকা যাত্রীদের অনেকের শরীরে পচন ধরে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে মিসরের হাসপাতালে ভর্তি করে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে স্বজনদের মাঝে আহাজারি শুরু হয়েছে। নিখোঁজ ১৮ জনের মধ্যে উপজেলার ৭ জনের তথ্য নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন, চিকার কান্দি গ্রাম, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের মামুন খান, এনাম খান, রিপন মিয়া, শত্রু মর্দন গ্রাম (রিন্টু পালের পুত্র)রিদয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শান্তিগঞ্জ উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং নিখোঁজ ও হতাহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিচ্ছেন।
মিশরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশীরা দ্রুত দেশে ফেরার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অবৈধ মানব পাচারকারী দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে এভাবে বারবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









