সৌদি আরবগামী সন্তানকে বিমানবন্দরে শেষ বিদায় জানানোর কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে ছেলেকে প্রবাসে তুলে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায়ী যাত্রা করলেন বাবা সাংবাদিক মাকছুদ উল্যাহ (৫০)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) গাজীপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
নিহত মাকছুদ উল্যাহ ভোলার লালমোহন প্রেসক্লাবের সিনিয়র কার্যনির্বাহী সদস্য এবং দৈনিক কলমের কণ্ঠ পত্রিকার লালমোহন উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছেলেকে সৌদি আরবের ফ্লাইটে তুলে দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা ছিল। ইচ্ছে ছিল ছেলেকে বিমানবন্দরে বিদায় জানিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরবেন তিনি। কিন্তু জীবন ও মৃত্যুর নিষ্ঠুর সমীকরণে তাঁকে ফিরতে হলো মরদেহ হয়ে, অন্তিম যাত্রায়। অন্যদিকে, বাবার এমন আকস্মিক মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই বাধ্য হয়ে প্রবাসের পথে পাড়ি জমাতে হয়েছে প্রিয় সন্তানকে। একই পরিবারে ঘটে যাওয়া আনন্দ ও বেদনার এই বিপরীত বাস্তবতা স্বজন ও এলাকাবাসীর হৃদয়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
স্বজনদের অশ্রুসজল কণ্ঠে একটাই আক্ষেপ, "ইচ্ছে ছিল ছেলেকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরবেন তিনি, তা আর হলো না; তিনি ফিরছেন অন্তিম যাত্রায়। জীবনের এই নির্মম সমীকরণ আমরা মেনে নিতে পারছি না।"
এদিকে সাংবাদিক মাকছুদ উল্যাহর মৃত্যুর সংবাদ লালমোহনে পৌঁছালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। লালমোহন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর এই অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









