একটি দেশ, দেশের সভ্যতা কিংবা একটি সমাজ কতটা উন্নত ও মানবিক, তার প্রধান পরিমাপক কেবল মানুষের প্রতি মানুষের আচরণ নয়, বরং সেই সমাজের সবচেয়ে নির্বাক ও অসহায় জীবদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, তার ওপরও নির্ভর করে। সভ্যতার ইতিহাস বলে, মহান রাষ্ট্রনায়কেরা কেবল মানুষের অধিকার রক্ষার্থেই লড়েননি, বরং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং বোবা প্রাণীদের প্রতি মমত্ববোধ প্রদর্শনেও অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।
পশুর প্রতি ভালোবাসা মানুষের ভেতরে সমবেদনা, মানসিক চাপ কমানো এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, পোষাপ্রাণীর সাহচর্যে মানুষের শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ বা হ্যাপি হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়, যা বিষণ্ণতা ও একাকীত্ব দূর করে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। ফলে, একজন মানুষ সামাজিক এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
নতুন বাংলাদেশে যে গুণগত পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, তার অন্যতম প্রধান রূপকার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, অহিংস দর্শন এবং জনকল্যাণকামী কর্মকাণ্ডের কথা আমরা প্রতিনিয়ত আলোচনা করলেও, তাঁর চরিত্রের এক অসাধারণ ও কোমল দিক দেশবাসীর সামনে অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে উন্মোচিত হয়েছে, যা আলোচনার বাইরে। সেটি হলো তাঁর গভীর পশুপ্রেম এবং প্রাণিকুলের প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধ। ক্ষমতার শীর্ষাসনে বসেও প্রকৃতির অবলা প্রাণীদের অধিকার ও সুরক্ষায় তাঁর ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় স্তরের সংবেদনশীলতা প্রমাণ করে, তাঁর হৃদয়ের গভীরে রয়েছে এক বিশুদ্ধ মানবিক সত্তা।
আমাদের চারপাশের সমাজে প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা কোনো নতুন বিষয় নয়, কিন্তু অতি আধুনিকতার এই যুগে সস্তা প্রচার ও ইন্টারনেটে কুখ্যাতি বা ‘ভিউ’ পাওয়ার জন্য এক শ্রেণির মানুষের বিকৃত মানসিকতা চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অত্যন্ত অমানবিক ও নৃশংস একটি কাণ্ড দেশবাসীকে স্তম্ভিত করে দেয়। নিজের ভিউ ও সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে এক নিরীহ কুকুরকে ইট দিয়ে বেঁধে জীবন্ত অবস্থায় নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো এক পৈশাচিক ঘটনা ক্যামেরায় ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই নির্মমতা যখন সচেতন নাগরিকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছিল, ঠিক তখনই রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এক নজিরবিহীন ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এই পৈশাচিক ঘটনাটি দেখেন, পরক্ষণেই তিনি সেটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নেন। তিনি এই জঘন্য কর্মকাণ্ডকে কেবল একটি সাধারণ অবহেলা হিসেবে দেখেননি, বরং একে একটি তীব্র ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নির্দেশনায় অতি দ্রুততার সাথে সেই অপরাধীর গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার চেনা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাজারো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেখানে একজন দেশের সরকার প্রধান নির্বাক একটি প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে এভাবে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন, তা ছিল সাধারণ মানুষের ভাবনাতীত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই একটি পদক্ষেপ এ দেশের প্রাণিপ্রেমী মানুষসহ সমগ্র সচেতন সমাজকে এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছে এবং এটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, নতুন বাংলাদেশে কোনো অবলা প্রাণীর ওপর অত্যাচার করেও কেউ পার পাবে না।
তারেক রহমানের এই পশুপ্রেম বা প্রাণীদের প্রতি মমত্ববোধ কেবল কোনো রাজনৈতিক প্রচার কিংবা লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ক্ষমতার জৌলুস বা রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ব্যক্তিগত পরিসরে প্রাণীদের সান্নিধ্য উপভোগ করেন। ইতিমধ্যেই অনেকে দেখেছেন তাঁর নিজের পরিবারে অত্যন্ত আদর-যত্নে লালিত-পালিত হচ্ছে একটি বিড়াল। সাইবেরিয়ান প্রজাতির অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও লোমশ এই বিড়ালটির নাম ‘জেবু’। জেবুকে ঘিরে সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের আগ্রহের কোনো কমতি নেই।
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে তারেক রহমান যখন স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন, তখন তাঁর অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মতোই সম্পূর্ণ আইনি নিয়ম মেনে, বিশেষ ব্যবস্থায় এই প্রিয় পোষা প্রাণীটিকেও সাথে করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। বিমানবন্দরে ট্রাভেল অ্যানিমেল কেজে করে জেবুকে নামিয়ে আনার সেই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং মানুষের মনে ইতিবাচক সাড়া জাগায়। প্রবাসে থাকার সময়েও তাঁর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক কিংবা পারিবারিক ছবির এক কোণে প্রায়ই জেবুর উপস্থিতি দেখা যেত।
একটি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই বলেছিলেন, বিড়ালটি মূলত তাঁর কন্যা জাইমা রহমানের হলেও এখন এটি তাঁদের পুরো পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য সদস্য এবং সবার ভীষণ আদরের। ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের ক্লান্তিকর মুহূর্তগুলোর মাঝে এই নির্বাক পোষ্যটির সাথে তাঁর খুনসুটি ও সময় কাটানোর অভ্যাস প্রমাণ করে, একজন মানুষের হৃদয় কতটা সংবেদনশীল হলে ক্ষমতার মোহ তাঁকে আচ্ছন্ন করতে পারে না।
ব্যক্তিগত স্তরের এই ভালোবাসা তারেক রহমান প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিকভাবেও ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি এ দেশের প্রাণিকুলের অধিকার ও সুরক্ষায় নিয়োজিত স্বনামধন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া)’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি অবলা প্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা, বন্যপ্রাণী পাচার রোধ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য নানামুখী কার্যক্রমের স্বপ্নদ্রষ্টা ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি প্রায়ই তাঁর দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ জনগণের উদ্দেশে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে থাকেন, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়- প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
প্রাণীপ্রেমী ও উদ্ধারকারীদের কাজের গতি বাড়াতে এবং অসুস্থ পশুপাখির জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিবহনের জন্য তারেক রহমান ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইতোমধ্যে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অ্যানিম্যাল শেল্টার বা প্রাণীদের বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যেখানে প্রতিনিয়ত অর্থ ও খাবারের অভাব দেখা যায়, সেখানে তিনি সম্পূর্ণ গোপনে ও নীরবে নিয়মিত আর্থিক অনুদান প্রদান করে থাকেন। যে কোনো অসুস্থ, আহত বা বিপন্ন প্রাণীর জীবন রক্ষায় তাঁর দল ও সামাজিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সময় এগিয়ে এসেছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই গভীর পশুপ্রেম কেবল গৃহপালিত কুকুর কিংবা বিড়ালের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। তিনি বিশ্বাস করেন, বন্যভূমির নির্বিচার ধ্বংস ও শিকার বন্ধ না করলে এ দেশের বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে। তাঁর সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি পশুপাখিদের প্রতি মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের দায়িত্ব হলো অন্য সব প্রাণীর নিরাপত্তা দেওয়া, তাদের ওপর জুলুম করা নয়।
রাজনীতিতে যখন হিংসা, কাদা ছোঁড়াছুড়ি আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বই মূল নিয়ামক হয়ে ওঠে, তখন তারেক রহমানের এই পশুপ্রেম এবং পরিবেশ ও প্রাণিকুলের সুরক্ষার চিন্তা এ দেশের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব, স্নিগ্ধ ও মার্জিত রূপ নিয়ে এসেছে। তিনি দেশবাসীকে এই শিক্ষাই দিচ্ছেন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা প্রকৃতির সমস্ত সৃষ্টির প্রতি ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
একজন নেতার পিঠের হাড় স্বৈরাচারের নির্যাতনে বাঁকা হয়ে যাওয়ার পরেও যিনি মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল হতে পারেন এবং অবলা প্রাণীর যন্ত্রণায় ব্যথিত হয়ে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে পারেন, তিনিই প্রকৃত অর্থে একজন দূরদর্শী ও মানবিক রাষ্ট্রনায়ক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই অনন্য পশুপ্রেম ও পজিটিভ চিন্তাধারা আগামী দিনের বাংলাদেশকে কেবল অর্থনৈতিকভাবে নয়, বরং একটি সহনশীল, সংবেদনশীল ও পরম মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে, এটাই আজ দেশবাসীর দৃঢ় বিশ্বাস।
লেখক: সহ-প্রকাশনা সম্পাদক, জিয়া সাইবার ফোর্স কেন্দ্রীয় কমিটি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









