নোয়াখালীর হাতিয়ায় গ্রেপ্তার হানিফ উদ্দিন নামে এক যুবদল নেতাকে পরবর্তী সময়ে আরও তিনটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার একটি মামলায় পুলিশ তাকে আটক করার পর থানায় নিয়ে গিয়ে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের তিনটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত দুটি মামলার এজাহারে হানিফের নাম ছিল না বলেও দাবি পরিবারের।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে হানিফ উদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালীর দক্ষিণ পাশে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হানিফ উদ্দিন তমরদ্দি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আঠারোবেকি গ্রামের হাছান বেপারীর ছেলে। তিনি তমরদ্দি ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ হানিফকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের তিনটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরিবারের দাবি, এসব মামলার মধ্যে দুটি মামলায় হানিফ এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না।
হানিফের স্ত্রী রিক্তা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ তাকে আটক করে। কিন্তু থানায় নেওয়ার পর আরও তিনটি চুরির মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করছি। আদালতে পাঠানোর পর আইনজীবীর মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পারি।’
তবে পুলিশের দাবি, হানিফের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে নিয়ম মেনেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ‘হানিফ উদ্দিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হাতিয়া থানায় ১৯টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে তিনি কয়টিতে জামিনে আছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নথি ও এজাহার যাচাই করলে হানিফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









