বিদ্যালয় থেকে নিখোঁজের চার দিন পর ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে ১৩ বছর বয়সী তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত। তার নিখোঁজের পর একটি ভবনের ছাদে রক্তমাখা জামা, জুতা ও স্কুলের পরিচয়পত্র পাওয়ায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দর পুলিশ অনন্তকে হেফাজতে নিয়ে গাজীপুর পুলিশকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান অনন্তর বাবা সোহাগ মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দরে যান। পরে তাকে গাজীপুরে নিয়ে আসা হয়।
এর মাত্র একদিন আগে বৃহস্পতিবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান অনন্তর বাবার সঙ্গে কথা বলে ছেলেকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অনন্তকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। সে কীভাবে বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছাল এবং গত কয়েক দিন কোথায় ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অনন্ত কাপাসিয়ার বীরউজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) টিফিনের সময় ক্লাস থেকে বের হওয়ার পর সে আর শ্রেণিকক্ষে ফেরেনি। পরে বিদ্যালয়ের আশপাশে খোঁজ শুরু করেন শিক্ষক ও স্থানীয়রা।
এর মধ্যে বীরউজলী বাজারের কাছে একটি তিনতলা ভবনের ছাদে রক্তমাখা জামা, জুতা ও অনন্তর পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। পুলিশ এসব আলামত উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাটি ঘিরে বুধবার স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দারা মানববন্ধনও করেন।
অনন্তর বাবা সোহাগ মিয়া বলেন, “আমার ছেলেকে পেয়েছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। যারা পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন এবং খুঁজে পেতে সহযোগিতা করেছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।”
তবে অনন্তর নিখোঁজ হওয়ার পেছনের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। রক্তমাখা পোশাক ও জুতা কীভাবে ভবনের ছাদে গেল এবং এই কয়েক দিন সে কোথায় ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









