শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে প্রায় ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে নগরের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে একে একে বাস চলাচল শুরু হয়।
এর আগে সকাল থেকে শ্রমিকদের ধর্মঘট ও মহাসড়ক অবরোধের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়ে বরিশালের বাস যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ বিভিন্ন মহাসড়কে মাহিন্দ্রাসহ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ এবং শ্রমিক মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
সকাল থেকে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বাস চলাচল বন্ধ রেখে মহাসড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকেরা। এর ফলে বরিশাল থেকে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলার দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটের বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নথুল্লাবাদ টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। অনেকেই টার্মিনালে এসে বাস না পেয়ে ফিরে যান। কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প যানবাহনের খোঁজ করেন।
বাস ধর্মঘটের পাশাপাশি মহাসড়ক অবরোধ করায় নথুল্লাবাদ এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
শ্রমিকদের দাবি, মহাসড়কে মাহিন্দ্রাসহ বিভিন্ন ধরনের থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় রয়েছেন। এসব যানবাহন বাসের যাত্রী নিয়ে নেওয়ায় বাস মালিক ও শ্রমিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলেও তাদের অভিযোগ।
এ ছাড়া শ্রমিকদের ওপর হামলা বা মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিও তাদের কর্মসূচির অন্যতম কারণ ছিল।
শ্রমিকেরা জানান, একই দাবিতে এর আগেও বরিশালে বাস চলাচল বন্ধ রেখে আন্দোলন করা হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ায় তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছিলেন।
তবে দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় মঙ্গলবার আবারও ধর্মঘট ও অবরোধে যান তারা। দিনভর আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগের পর শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
অবরোধ তুলে নেওয়ার পর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাসগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে মহাসড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘‘দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’’
প্রায় ১০ ঘণ্টার অচলাবস্থার পর বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল ও বাস শ্রমিকদের সঙ্গে বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
যাত্রীদের দাবি, বাস মালিক-শ্রমিক ও থ্রি-হুইলার চালকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ দ্রুত মীমাংসা করে মহাসড়কে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









