সকালের কর্মব্যস্ত সময়ে জমিতে ধান ও পাট নিয়ে কাজ করছিলেন বাবা-ছেলে। সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে একপর্যায়ে হাতাহাতি, আর সেই ঝগড়া থামাতে গিয়ে হাঁসুয়ার আঘাতে প্রাণ গেল এক চাচার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের দাঁদপুর বাগিচাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. ইদ্রিস আলী। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা এবং আবু বকর সিদ্দিকের ভাই। এ ঘটনায় আবু বকর সিদ্দিক ও তাঁর ছেলে মো. আলফাজ (৩৫) আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জমিতে ধান চাষ ও পাট কাটার সময় আলফাজ তার বাবার সামনে বিড়ি ধরান। এতে বাবা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বকাঝকা করেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী দাঁদপুর বাগিচাপাড়ার বাসিন্দা আক্তার ও মেরাজ তাদের কাজ বন্ধ করে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর আবারও বাবা-ছেলের মধ্যে মারামারি শুরু হলে ইদ্রিস আলী তা থামাতে এগিয়ে আসেন। তখন আলফাজের হাতে থাকা হাঁসুয়ার আঘাতে তার বাবা ও চাচা গুরুতর আহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী আক্তার বলেন, ‘আমি তাদের ঝগড়া থামিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেছিলাম। পরে আবার মারামারি শুরু হলে ইদ্রিস চাচা থামাতে এগিয়ে যান। তখনই হাঁসুয়ার আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে যান।’
স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইদ্রিস আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলফাজ রবিবার একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বাড়ি ফেরেন। তাঁর মাদকাসক্তির বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে; তবে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হাঁসুয়ার আঘাতে ইদ্রিস আলী নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









