লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কাতার প্রবাসী এক যুবককে বিয়ের দাবিতে তার বাড়ির সামনে টানা ৬ দিন অনশন করার পর রাহেনা আক্তার (২৪) নামে এক তরুণীকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত ৩টায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে তার প্রকৃত নাম রাহেনা আক্তার (২৪) বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি নিজের নাম ফাতেমা আক্তার ও ঠিকানা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাহেনা আক্তারের এর আগে ২টি বিয়ে হয়েছে। ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে।
তবে পুলিশি অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর আরো অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা যায়, ওই তরুণী মূলত একজন পেশাদার প্রতারক। ধনী যুবকদের টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল পেশা। তার প্রকৃত নাম: রাহেনা আক্তার, পিতা: নুরুল আলম, বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, উপজেলার উত্তর পায়ুং গ্রামের বাসিন্দা। বিভিন্ন সময় ভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি এ পর্যন্ত অন্তত আরো কয়েকজন যুবকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি একাধিকবার বিয়েও করেছেন এবং ধনী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করাই তার কৌশল ছিল।
গ্রেপ্তার রাহেনা গত শনিবার থেকে রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্য পাটোয়ারী বাড়িতে কাতার প্রবাসী ইমন হোসেনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তার দাবি ছিল, ইমন হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ইমন তা থেকে সরে গেছেন।
রাহেনার আরও দাবি করে, কাতারে থাকা অবস্থায় ইমন হোসেন মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং রমজান মাসে দেশে এসে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দেশে এসেও তাকে বিয়ে না করে ইমন আবার কাতারে চলে যান।
অনশনের সময় ইমন তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করতে পারেন বলেও হুমকি দেন। এর আগেও ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেন একাধিক ভিডিও বার্তায় রাহেনা আক্তারের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক বা অন্য কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ওই নারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ভিডিওবার্তায় ইমন হোসেন আরও দাবি করেন, তার পরিবারকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে রাহেনা আক্তার বারবার তার বাড়িতে এসে অনশনের নাটক করছেন। এ ঘটনায় রাহেনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করায় তিনি রামগঞ্জ থানা পুলিশকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
এর আগে ইমন হোসেনের মা বলেন, তার ছেলের সঙ্গে রাহেনার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। প্রবাসে অবস্থানকালে কিছু দিন মোবাইল ফোনে কথা বলার সূত্র ধরে ওই নারী তাদের পরিবারকে হয়রানি করছে।
ইমনের মা আরও বলেন, এর আগেও কয়েকবার রাহেনা আক্তার তাদের বাড়িতে এসে একইভাবে অবস্থান নিয়েছে। এতে পরিবার ও এলাকার মানুষের মধ্যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
রামগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও রাহেনা একই বাড়িতে এসে অনশনে বসেছিল। ওই সময় সে পুলিশকে নিজের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছিল তা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাকে বারবার বুঝিয়েও সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে যে নাম-ঠিকানা দিয়েছিল তা ফেনীর ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে যাচাই করা হলেও সঠিক পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগের ঘটনায় তাকে থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। সবশেষ কাতার প্রবাসী ইমন হোসেনকে বিয়ের দাবিতে টানা ৫ দিন অনশনে থাকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাহেনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









