সিলেটের বিয়ানীবাজারে কথিত ‘তৌহিদী জনতা’র বাধার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সোনাই নদীতে লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের আয়োজনে নৌকাবাইচের ৩০তম আসর বসে।
দুপুরের পর থেকেই নৌকাবাইচ দেখতে সোনাই নদীর দুই তীরে জড়ো হতে থাকেন শত শত মানুষ। নৌকার ছুটে চলা আর মাঝিদের বৈঠার ছন্দে নদীতীরে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এতে অংশ নেন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে নৌকাবাইচ দেখতে আসেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় তিনটি নৌকা অংশ নেয়। মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে আসা নৌকাগুলোর নাম ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ ও ‘পাগলা নাও’।
এর আগে নৌকাবাইচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে একটি পক্ষ নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানায়। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা হয় এবং নৌকাবাইচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘‘নৌকাবাইচের কারণে সোনাই নদীতে নদীভাঙন ও কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে। এ কারণে এবার আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হলেও আগামী বছর থেকে সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’’
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘স্থানীয়দের সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।’’
এদিকে সোনাই নদীর দুই পাড়ে জড়ো হওয়া শত শত দর্শকের সঙ্গে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন সিলেট ৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার, বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম, লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









