বরিশালের বানারীপাড়ার বহুল আলোচিত ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আ. মান্নান জুয়েল (৩৫) দীর্ঘ ১৪ বছর আত্মগোপনে থেকেও শেষ পর্যন্ত রেহাই পেলেন না। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) যৌথ অভিযানে অবশেষে ধরা পড়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-৮ ও র্যাব-৭ এর যৌথ আভিযানিক দল।
র্যাব জানায়, ২০১২ সালে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া থানায় আ. মান্নান জুয়েলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তবে রায় ঘোষণার পর থেকেই জুয়েল আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
বানারীপাড়া থানা পুলিশ সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেফতারের জন্য র্যাব-৮ এর অধিনায়ক বরাবর একটি আনুষ্ঠানিকভাবে অধিযাচনপত্র প্রেরণ করে। এর পর থেকেই র্যাব আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে।
একপর্যায়ে র্যাব-৮, সদর কোম্পানি (বরিশাল) এবং র্যাব-৭, সিপিএসি (চট্টগ্রাম) এর যৌথ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয় যে, আসামি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় ছদ্মবেশে অবস্থান করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে পাহাড়তলী থেকে মান্নান জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আ. মান্নান জুয়েল বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের আ. হক মিয়ার ছেলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র্যাব-৮, বরিশালের মিডিয়া অফিসার লে. কমান্ডার বিএন মো. শাহরিয়ার রিফাত অভি জানান, জঘন্যতম অপরাধের সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তৎপর। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা আসামি জুয়েলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বানারীপাড়া থানায় পৌঁছানোর পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









