ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ যেন প্রতিদিন এক জীবন্ত মৃত্যুফাঁদ। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের হাজার হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রোগীরা বুকভীতি নিয়ে এই ব্যস্ত মহাসড়ক পার হচ্ছেন। দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে জীবন বাজি রেখে পারাপারের এই দৃশ্য এখন সীতাকুণ্ডের সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের আতঙ্ক ও দুর্ভাগ্যের বাস্তব চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলার পৌর সদর, বড় বাজার, কুমিরা ও বাড়বকুণ্ড এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সামনে ঘুরে দেখা যায় চরম বিশৃঙ্খলা। মহাসড়কের দুই পাশে স্কুল, কলেজ ও চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও শিক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য নেই কোনো কার্যকর ফুটওভারব্রিজ বা নিরাপদ জেব্রা ক্রসিং। ফলে জীবন বাঁচাতে বুক চিরে দৌড়ে পার হতে হয় ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক রোগী ও গর্ভবতী নারীদেরও। একটু এদিক-সেদিক হলেই চাকার নিচে পিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা মাথায় নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
শিক্ষার্থীদের এই চরম ঝুঁকি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাত সুলতানা। তিনি বলেন, “প্রতিদিন ক্লাসে আসার সময় মহাসড়ক পার হতে আমাদের বুক কেঁপে ওঠে। গাড়ির যে বেপরোয়া গতি, তাতে মনে হয় এই বুঝি চাপা পড়লাম। বড় কোনো ফুটওভারব্রিজ বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের জীবন প্রতিনিয়ত হাতের মুঠোয় নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”
একইভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে আসা স্বজনদের। সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অ্যাম্বুলেন্স বা রিকশা থেকে নেমে রোগী নিয়ে রাস্তা পার হওয়া কতটা কঠিন, তা বর্ণনা করতে গিয়ে বড় দারোগারহাট এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় রাস্তা পার হতেই পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। কোনো সিগন্যাল নেই, গাড়ির চালকরা থামতেও চায় না। মুমূর্ষু রোগীকে কোলে বা স্ট্রেচারে করে এমন ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা পার করা মানে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া।”
নিরাপদ পারাপারের এই করুণ চিত্র নিয়ে সীতাকুণ্ড হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, “মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে স্কুল ও হাসপাতালের সামনে শিক্ষার্থী এবং রোগীদের পারাপার যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, সে বিষয়ে আমরা ওয়াকিবহাল আছি। ইতিমধ্যে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ কঠোর নজরদারি রাখছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জনবহুল পয়েন্টগুলোতে দ্রুত ফুটওভারব্রিজ ও গতিরোধক স্থাপনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”
সচেতন মহল মনে করছে, কেবল মৌখিক আশ্বাস বা দুর্ঘটনা ঘটার পর নড়েচড়ে বসলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে না। অবিলম্বে সীতাকুণ্ডের ব্যস্ততম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর সামনে আধুনিক ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ এবং ট্রাফিক সিগন্যাল নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এই মহাসড়কে তাজা প্রাণের ঝরে পড়ার মিছিল থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









