সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে উদগল-ছায়ার হাওর এলাকার ইজারাকৃত হাতনী জলমহালে জোরপূর্বক মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইজারাপ্রাপ্ত জয়পুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় দিরাই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমিতির একাধিক সদস্য বক্তব্য দেন। তারা দাবি করেন, গত ৮ আগস্ট ও ২ সেপ্টেম্বর দুই দফায় জলমহালে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে নিয়ে গেছে একটি সংঘবদ্ধ দল। তাদের দাবি, লুট হওয়া মাছের আনুমানিক মূল্য দেড় থেকে দুই কোটি টাকা।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিকাশ রঞ্জন দাস জানান, এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামাসহ প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে দিরাই ও শাল্লা থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৮ আগস্ট ও ২ সেপ্টেম্বর শাল্লা উপজেলার আটগাঁও, সোনাকানি, মির্জাপুর, নিজগাঁওসহ বিভিন্ন গ্রামের দুই শতাধিক লোক ৩০ থেকে ৪০টি নৌকা নিয়ে হাতনী জলমহালে প্রবেশ করে। এ সময় তারা কোনা জাল, কারেন্ট জাল ও সুতার জাল ব্যবহার করে জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
বিকাশ রঞ্জন দাস বলেন, “দুই দফায় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে আমাদের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আনুমানিক দেড় কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুট করে নিয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, হাতনী জলমহালটি সরকার থেকে ছয় বছর মেয়াদে ইজারা নিয়ে নিয়ম মেনে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও আহরণ করা হচ্ছে। কিন্তু বারবার মাছ লুটের ঘটনায় সমিতি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে বছরে কোটি টাকার বেশি সরকারি খাজনা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সমিতির নেতারা জানান, গত দুই বছর ধরে জলমহালের নির্দিষ্ট এলাকায় মাছ সংরক্ষণ করে আসছেন তারা। কিন্তু সংরক্ষিত এলাকায় কারেন্ট জাল ও কোনা জাল ব্যবহারের কারণে বড় মাছের পাশাপাশি পোনা মাছও ধরা পড়ছে। এতে জলমহালের মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে পুনরায় মাছ লুটের আশঙ্কায় প্রকৃত ইজারাদার ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, “মাছ লুটের অভিযোগ এনে দিরাই ও শাল্লা থানায় সমিতির লোকজন পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে জলমহালে মাছ লুটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, জলমহালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি রাজস্ব রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান জয়পুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









