গাজীপুরে মাদক, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আরও কঠোর ও দৃশ্যমান অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন রেলপথ এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং গাজীপুর জেলার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। নিজ দলের কেউ অপরাধে জড়িত থাকলেও তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের মূলনীতি হলো—‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।’’
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘যে কোনো মূল্যে দেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে।’’
এছাড়াও তিনি টঙ্গীর মাজার বস্তিসহ গাজীপুরের প্রতিটি অপরাধপ্রবণ এলাকায় দৃশ্যমান, সর্বাত্মক ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অপরাধ দমনে পুলিশকে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়েও সভায় নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। মহাসড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দুর্ঘটনার পর দ্রুত মামলা দায়ের এবং নিহতদের পরিবারের কাছে সরকারি আর্থিক সহায়তা ও আইনি সহযোগিতা পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় প্রতিমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে কাজ করার নির্দেশ দেন। আগামী সভায় প্রতিটি বিভাগের দায়িত্ব, অগ্রগতি ও ব্যর্থতার কারণ পর্যালোচনার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
আলোচনায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘‘মাদক ও চাঁদাবাজি বন্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’’ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যে পরিচয়েরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, ‘‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ অনেক আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত করেছেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’’
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘‘অতীতে প্রশাসনের উপর অনেক সময় ওপর থেকে কাজ চাপিয়ে দেওয়া হতো। বর্তমানে কর্মকর্তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কাজ করছেন।’’ সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আগামী সভার আগেই বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় টঙ্গীর মাজার বস্তিকে মাদকের অন্যতম আখড়া হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে পরিচালিত অভিযান সম্পর্কে বক্তব্য দেন জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। তিনি জানান, রাজউকের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ এ বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় পুলিশকে নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে সেখানে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান গত মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন। মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, গরু চুরি, গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, সার মজুত ও বিতরণ এবং রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এবং গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার, জেলা পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









