রুবেন নেভেসের জন্য ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল শুধুই একটি বড় জয় উদযাপনের। আল হিলাল ৬-০ গোলে হারিয়েছে আল তাওউনকে। গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি করেছেন হ্যাটট্রিক, আর ইংল্যান্ডের অলিভার ওয়াটকিন্স যোগ করেছেন আরও দুটি গোল। কিন্তু মাঠের ফলাফল শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে থাকেনি। কারণ, গ্যালারির কিছু সমর্থকের আচরণ ছাপিয়ে গেছে ফুটবলের সবকিছুকে।
ম্যাচ চলার সময় রুবেন নেভেসকে লক্ষ্য করে এমন কিছু স্লোগান দেওয়া হয়, যেখানে প্রয়াত দিয়োগো জোটার নাম ব্যবহার করে তাকে বিদ্রূপ করা হচ্ছিল বলে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। জোটা ও তার ভাই আন্দ্রে সিলভা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। নেভেস ছিলেন জোটার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের সতীর্থ।
এমন পরিস্থিতিতে নেভেসের প্রতিক্রিয়াও ছিল স্পষ্ট। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, পরে তারা প্রার্থনায় যাবে না।”
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। রোনালদোর মতে, যারা একজন মৃত মানুষের নাম ব্যবহার করে তার বন্ধুকে অপমান করতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এমনকি তিনি দাবি করেছেন, এ ধরনের সমর্থকদের ভবিষ্যতে কোনো স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
ফুটবল আবেগের খেলা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, উত্তেজনা থাকবে, কখনো কখনো তীব্র কথার লড়াইটাও থাকবে। কিন্তু মৃত্যুকে নিয়ে বিদ্রূপ সেই সীমারেখা অনেক আগেই পেরিয়ে যায়। বিশেষ করে যখন সেই আঘাতের লক্ষ্য এমন একজন মানুষ, যিনি নিজেই হারিয়েছেন একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থকে।
আল হিলালের ৬-০ জয় তাই শেষ পর্যন্ত শুধুই স্কোরলাইনের গল্প হয়ে থাকল না। এটি হয়ে উঠল স্টেডিয়ামে সমর্থকদের আচরণ, শোকের প্রতি সম্মান এবং ফুটবলের সেই অদৃশ্য সীমারেখা নিয়ে আরও একটি কঠিন প্রশ্ন।
রোনালদোর বার্তাটি সেই প্রশ্নকেই সামনে এনে দিয়েছে: প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, মানবিকতার সীমা কি কোথাও অতিক্রম করা যায়?


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









