লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুশ্রমিককে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে একটি বেকারির মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে চার সাংবাদিক মবের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মামা আলাউদ্দিন ও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে রায়পুর থানায় পৃথক এজাহার দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আশ্রাফগঞ্জ বাজারের মহিলা কলেজ সড়কে পানির ট্যাংকির পাশে নিউ ইসলামীয়া বেকারিতে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ, ১২ বছর বয়সী যুবায়ের প্রায় দুই মাস আগে ওই বেকারিতে কাজ নেয়। কয়েক দিন আগে পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে চাইলে মালিক ও ম্যানেজার তাকে যেতে দেননি। ঘটনার দিন ম্যানেজার যুবায়েরের মাকে ফোন করে ছেলে অসুস্থ বলে জানান। পরে বেকারিতে গেলে যুবায়ের একটি প্রিন্ট মেশিনের তার কেটেছে দাবি করে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ না দিলে তাকে নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছে পরিবার।
ঘটনা শুনে সংবাদ সংগ্রহে গেলে দৈনিক আমার দেশ-এর রায়পুর প্রতিনিধি এস এম জাকির হোসাইন, দৈনিক বাংলাদেশের আলো-এর জেলা প্রতিনিধি নাঈম হোসাইন, এনপিবি নিউজ-এর উপজেলা প্রতিনিধি মাহবুবুল আলম রনি ও দৈনিক আমার সকাল-এর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল আহাদকে বেকারির ম্যানেজার ও তার লোকজন ঘিরে ধরেন বলে সাংবাদিকেরা অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনকে উত্তেজিত করে মব পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
সাংবাদিকেরা জানান, ঘটনাস্থলে অল্পবয়সী একাধিক শিশুকে কাজ করতে দেখা গেছে। যুবায়েরও সাংবাদিকদের কাছে দাবি করে, সে কোনো তার কাটেনি এবং বেকারিতে এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে।
এদিকে বেকারির মালিক মো. হারুনুর রশিদ পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড যাচাই করে অভিযোগটির সত্যতা পায়নি।
অভিযুক্ত মালিক ও ম্যানেজার শিশুটিকে আটকে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তার কাটার সময় যুবায়ের পাশে থাকায় তার মাকে মিথ্যা বলে বেকারিতে আনা হয়েছিল। তার মেরামতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হবে—এ কথা জানিয়ে বিষয়টি সমাধান করে ছেলেকে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, শিশুশ্রমের সত্যতা পাওয়া গেছে। শিশুদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা সিসিটিভি ও কল রেকর্ড যাচাই করে পাওয়া যায়নি। বেকারির মালিক হারুন মিথ্যা রটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জনসম্মুখে ক্ষমা চেয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









