রাতের নিরিবিলি সড়কে হঠাৎ একসঙ্গে ৮-১০টি প্রাইভেটকার ও ১৫-২০টি মোটরসাইকেলের উপস্থিতি। সঙ্গে লাঠিসোঁটা ও মশাল তৈরির সরঞ্জাম। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই সরে যায় সেখানে জড়ো হওয়া লোকজন। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ৩০-৩২টি মশাল ও একটি মোটরসাইকেল।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৮টার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা বরইতলা এলাকার এশিয়ান বাইপাসে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রস্তুতি হিসেবে সেখানে জড়ো হয়েছিল। তবে তাদের এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে নাগরী ইউনিয়ন বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে অবস্থান নেওয়া লোকজন দ্রুত সরে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
নাগরী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘রাতের ওই জমায়েতের বিষয়টি জানার পর আমরা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিইনি। বিপুলসংখ্যক যানবাহনে লোকজনের এমন অবস্থান এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তাই নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেন এবং পরে পাওয়া সরঞ্জাম পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।’
তবে বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন নাগরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রহিম সরকার। তিনি বলেন, ‘এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকে আমরা সতর্ক ছিলাম। খবর পাওয়ার পর নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ায় পরিস্থিতি বড় আকার নেয়নি। এখন কারা সেখানে এসেছিল, কী উদ্দেশ্যে এসেছিল—তদন্তের মাধ্যমে সেটি পরিষ্কার হওয়া দরকার।’
উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফাইজুর রহমান বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীরা ৩০-৩২টি মশাল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া আলামত এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









