জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সিলেটের পণ্য পরিবহন ও কাঁচাবাজারে। দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ভাড়া বেড়েছে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে বাড়তি খরচে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের দামে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট নগরের মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজার, আম্বরখানা, রিকাবিবাজার ও সোবহানীঘাটের বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক দিনের ব্যবধানে সব ধরনের সবজি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামে পণ্য কিনে আনতে হচ্ছে। সেই বাড়তি খরচের একটি অংশ যোগ হচ্ছে খুচরা দামে।
সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাসুম আহমদ লস্কর দৈনিক এদিনকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দূরপাল্লার পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। দিনাজপুর থেকে সিলেটে একটি ট্রাকের ভাড়া আগে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিল। এখন এর সঙ্গে আরও ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা যোগ হয়েছে।
সোবহানীঘাট পাইকারি সবজি বাজারের আড়তদার আব্দুল কাদির বলেন, মঙ্গলবার থেকে প্রতি বস্তায় পরিবহন খরচ ২০ টাকা করে বেড়েছে। তাঁর ভাষ্য, বেশি দামে পণ্য আনতে হলে বেশি দামেই বিক্রি করতে হবে।
তাঁর দাবি, গাড়ির ভাড়া বাড়ায় প্রয়োজনের সময় গাড়ি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কাঁচা ও দ্রুত পচনশীল পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাজারে বুধবার আকার ও মানভেদে বেগুন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১৩০ টাকায়। দুই দিন আগে এর দাম ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। শসা বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, যা আগের দিন সর্বনিম্ন ৪০ টাকা ছিল। দুই দিন আগে ফার্মের ডিমের প্রতি হালি ছিল ৫০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৫৫ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া কাঁচামরিচ, রসুন, আটা-ময়দা ও ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সোবহানীঘাট স্ট্যান্ডের ট্রাকচালক দৈনিক এদিনকে বলেন, আগে মাঝারি ট্রাকে ঢাকায় যেতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া পাওয়া যেত। এখন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা ভাড়া নিতে হচ্ছে। তবে ভাড়া বাড়ায় ট্রিপ কমে গেছে। অনেক সময় সারা দিন বসে থাকলেও ট্রিপ পাওয়া যাচ্ছে না।
সিলেটের পাইকারি বাজার কালিঘাটের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ট্রাক মালিকেরা নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ করছেন। এতে বাড়তি ভাড়ায় পণ্য আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাক পেতেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে।
কালিঘাট কাঁচামাল আড়তদার সমিতির সভাপতি আব্দুল গফফার মিন্টু বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়বে। এতে শিল্পপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের ব্যয়ও বাড়বে। তবে জ্বালানি তেলের দাম যে হারে বেড়েছে, পণ্য পরিবহনের ভাড়া হয়তো একই হারে বাড়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে।
সিলেট বিভাগীয় ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমন্বয়ক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শাব্বির আহমদ ফয়েজ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দূরপাল্লার ট্রাকের ভাড়া সরকারিভাবে সমন্বয় করা হয়নি। সরকার বাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করলেও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, ফলে ট্রাকের ভাড়া নির্ধারণে মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দর-কষাকষি করতে হয়। চাহিদা বেশি থাকলে ভাড়া বাড়ে, আবার ট্রাকের সরবরাহ বেশি থাকলে দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণে ভাড়ায় স্থিতিশীলতা থাকে না। তিনি পণ্য পরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
মদিনা মার্কেটে বাজার করতে আসা হাবিবুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়ছে। গাড়িভাড়াও বাড়ছে। এতে সংসারের খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









