নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় নিজের জমি না থাকায় অন্যের জায়গায় জরাজীর্ণ ঘরে বসবাসকারী এক দিনমজুরের পরিবারকে তিন মাসের মধ্যে ঘর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন কলেজপড়ুয়া মেয়েসহ ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন দিনমজুর আশরাফ আলী (৫৭)।
পরিবারটি গুরুদাসপুর পৌর এলাকার খামারনাচকৈড় খোয়ারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। আশরাফ আলী দিনমজুরের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়ে টেনেটুনে সংসার চালান। তাঁর তিন মেয়ে বিভিন্ন কলেজে এবং একমাত্র ছেলে একটি দোকানে কাজ করার পাশাপাশি পড়াশোনা করছে।
স্থানীয়রা জানান, আশরাফ আলীর নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় একই মহল্লার নওশের মোল্লার জমিতে বাঁশের খুঁটি ও বেড়া দিয়ে একটি ছাপরা ঘর তুলে প্রায় ১২ বছর ধরে পরিবারটি বসবাস করে আসছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ও কাদা জমে যায়। সম্প্রতি জায়গার মালিক সেখানে বাড়ি নির্মাণ করবেন জানিয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে ঘরটি সরিয়ে নিতে বলেছেন। বিকল্প কোনো আশ্রয়স্থল না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আশরাফ আলী বলেন, "নিজের কোনো জমি নেই। এতগুলো সন্তান নিয়ে কোথায় যাব? সরকার যদি মাথা গোঁজার একটু জায়গা ও ঘরের ব্যবস্থা করে দিত, তবে সন্তানদের নিয়ে বাঁচতে পারতাম।"
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন হাসান ও স্বাধীন তালুকদার জানান, পরিবারটি অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রশাসন একটু সহযোগিতা করলেই পরিবারটি স্থায়ী একটি ঠিকানা পেতে পারে।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, "পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









