দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রোপা আমন চাষে কৃষকদের দক্ষতা বাড়াতে গত দেড় মাসে ৩০০টি উঠান বৈঠক করেছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আমন ধানের রোগ-পোকা দমন, অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার রোধ, ভার্মি কম্পোস্ট ও জৈব সার ব্যবহার এবং মাটির ১৭টি উপাদান সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে এসব বৈঠকে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে প্রায় তিন শতাধিক কৃষক-কৃষানীকে নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কৃষক প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন রোগ-পোকার আক্রমণ থেকে আমন ক্ষেত রক্ষার কৌশল হাতে-কলমে শেখানোর পাশাপাশি ‘খামারি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এসব আয়োজনে ৬০০ থেকে ৭০০ কৃষক-কৃষানী অংশ নিচ্ছেন।
উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৩১টি ব্লকে মোট ৫০০টি উঠান বৈঠকের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পার্বতীপুরে কৃষকের সংখ্যা ৮৬ হাজার ৬০১। চলতি মৌসুমে ২৮ হাজার ৮৯৭ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব হুসাইন বলেন, আমন ফসলের রোগ ও পোকা আক্রমণের লক্ষণ, মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতি এবং সরকারি কৃষিসেবা সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতেই এসব উঠান বৈঠক। কৃষকের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
সিনিয়র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সুফিয়ান বলেন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কম খরচে, কম পরিশ্রমে এবং বিষমুক্তভাবে বেশি ফলন সম্ভব। এ জন্য কৃষকদের ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার ও মাটির ১৭টি উপাদান সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উঠান বৈঠকে আমন ধান থেকে মানসম্মত বীজ উৎপাদন, বীজ সংরক্ষণ, উপযুক্ত ধান নির্বাচন এবং বীজ রোপণ ও বিতরণের সময় নিয়েও আলোচনা করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এসব প্রশিক্ষণে অংশ নেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









