চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঝরঝরি ঝর্ণা দেখতে গিয়ে গহিন পাহাড়ে পথ হারিয়ে আটকা পড়া দুই কলেজশিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় ঘণ্টার অভিযান শেষে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে পন্থিছিলার দুর্গম পাহাড়ি অরণ্য থেকে তাদের জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর ফ্রিপোর্ট এলাকার শ্রাবণ দেব (১৯) ও মো. সিয়াম (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে তারা পন্থিছিলার ঝরঝরি ট্রেইলে ঘুরতে যান। পাহাড়ি ঝিরিপথ ধরে হাঁটার একপর্যায়ে মূল পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গহিন অরণ্যে ঢুকে পড়েন। সন্ধ্যা নেমে এলে এবং ঘন জঙ্গলে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পাহাড়ের কিছুটা ওপরে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।
উদ্ধার হওয়া শ্রাবণ দেব বলেন, মূল পথ হারিয়ে চারপাশে ঘন জঙ্গল দেখে খুব ভয় পাচ্ছিলাম। ৯৯৯-এ কল দেওয়ার পর পুলিশ গভীর রাতে কষ্ট করে আমাদের উদ্ধার করেছে। এ জন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঝরঝরি ট্রেইলটি দীর্ঘ ও দুর্গম হওয়ায় গাইড ছাড়া পথ হারানোর আশঙ্কা থাকে। স্থানীয়দের মতে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় দুর্গম স্পটগুলোতে আরও দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা প্রয়োজন।
খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে টর্চের আলোয় দুর্গম ঝিরিপথ ও খাড়া পাহাড়ে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করা হয়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ থেকে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে প্রাথমিক সেবা দিয়ে রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীতাকুণ্ডের পাহাড় ও ঝর্ণায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে। স্থানীয় অভিজ্ঞ গাইড ছাড়া দুর্গম বা অপরিচিত ট্রেইলে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









