সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাবা-মেয়ের হৃদয়স্পর্শী ভিডিওতে আলোচনায় আসা বরিশালের উজিরপুরের শিশু তুবা বিনতে অর্ণির বাবা রায়হানুল হক অনিককে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তিন মাসের জন্য রিহ্যাবিলিটেশন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়েছে।
একই সঙ্গে অনিকের পরিবারকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি অনিকের স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং তুবার পড়াশোনা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অনিককে একটি গাড়িতে করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, অনিককে তিন মাসের জন্য রিহ্যাবে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষে তিনি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন, এ লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অনিক চিকিৎসাধীন থাকা সময়ে তাঁর পরিবারের যাবতীয় বিষয় আমি দেখভাল করব। পরিবারের খাবারসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হবে।
অনিকের পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে তাঁর স্ত্রীকে আয়ের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ইউএনও জানান, তিনি সেলাইয়ের কাজ করতে আগ্রহী হলে তাঁকে সেলাই মেশিন দেওয়া হবে। এ ছাড়া যে ধরনের কাজের মাধ্যমে তিনি আয় করতে পারবেন, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ইউএনও মো. আলী সুজা। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অনেকেই পরিবারটিকে সহযোগিতা করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। কেউ সহায়তা করতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তা পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তুবার পড়াশোনা যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ছোট্ট তুবাকে তার বাবা অনিককে চা ও রুটি খাওয়াতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে অনিককে বেঁধে রাখা হয়েছে। চারপাশে লোকজনের ভিড়। এর মধ্যেই বাবার কাছে ছুটে যায় শিশু তুবা। পরে নিজের হাতে বাবাকে চা ও রুটি খাইয়ে দেয় সে।
বাবা-মেয়ের এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তুবার পরিবারের আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শিশুটির ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনা নিশ্চিত করা এবং তার বাবার জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবিও ওঠে বিভিন্ন মহলে।
ভিডিওটি সামনে আসার পর পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে অনিককে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য রিহ্যাবে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ এবং তুবার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে পরিবারটি সংকট কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে, এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









