সিলেটের মোগলাবাজার থানাধীন পাঠানপাড়া এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) মালিকানাধীন জমিতে নির্মাণাধীন দেয়ালের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে নির্মিত দেয়ালের অংশ সাত দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে সওজ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্বনাথ সড়ক উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আসুম বিল্লাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মো. মইন উদ্দিন ও মো. নাছির উদ্দিনকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, মৌলভীবাজার-রাজনগর-ফেঞ্চুগঞ্জ-সিলেট (এন-২০৮) মহাসড়কের ৫৭তম কিলোমিটারে গোটাটিকর মৌজায় সওজের মালিকানাধীন জমিতে মইন উদ্দিন ও নাছির উদ্দিন অবৈধভাবে দেয়াল নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করার পাশাপাশি ইতোমধ্যে নির্মিত অংশ চিঠি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে অপসারণ করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও জমি-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, পাঠানপাড়ায় দৈনিক জৈন্তাবার্তা কার্যালয়ের সামনে ৬৫০১ দাগে সওজের প্রায় চার শতক জমিতে দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও মইন উদ্দিন ওই নির্মাণকাজ করছিলেন। ওই জমিতে পারিবারিক গোরস্থান নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা তৌসিফ বক্স লিপন এবং বিএনপি নেতা আক্তার ওই কাজে সহযোগিতা করছেন। সম্প্রতি তাদের ওই জায়গা পরিদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যেমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সেখানে পারিবারিক গোরস্থান নির্মাণের কথা তিনি শুনেছেন, কিন্তু এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তৌসিফ বক্স লিপনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
পাশের ৬০০৩ দাগের জমির মালিক লন্ডনপ্রবাসী কাউসার আহমদ শিপলুর দাবি, ১৯৫৬ সালে সওজ ৬৫০১ দাগের জমিটি অধিগ্রহণ করে। ফলে জমিটি সওজের মালিকানাধীন। তার অভিযোগ, নাছির উদ্দিন ওই জমি দখল করে সেখানে পারিবারিক গোরস্থান নির্মাণের চেষ্টা করছেন।
কাউসার আহমদ বলেন, ‘‘এর আগেও ওই জায়গা দখল করে তিনটি দোকানকোঠা নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে ওয়ান-ইলেভেনের সময় সওজের অনুরোধে সেনাবাহিনী সেগুলো উচ্ছেদ করে। এখন আবারও জায়গাটি দখলের চেষ্টা চলছে।’’
গত বুধবার দুপুরে দেয়াল নির্মাণে বাধা দেওয়া হলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, কাজ বন্ধ রাখতে সওজ একটি নোটিশ জারি করেছে। তিনি নোটিশের একটি অনুলিপি পেয়েছেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘‘জায়গাটি সওজের মালিকানাধীন। নির্মাণাধীন দেয়ালের কাজ বন্ধ এবং ইতোমধ্যে নির্মিত অংশ সাত দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এমদাদুল হক শরীফও সওজের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









