শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে ২ হাজার টাকা দাবি এবং দরাদরির পর ৭০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাজিম আহম্মেদকে ক্লোজ করা হয়েছে। তাকে জাজিরা থানা থেকে প্রত্যাহার করে শরীয়তপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান। তিনি জানিয়েছেন, এএসআই নাজিম আহম্মেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য টাকা দাবির অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে।
পরে এএসআই নাজিমকে জাজিরা থানা থেকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে জাজিরা থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে এএসআই নাজিমের বিরুদ্ধে ২ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ করেন উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের মো. রবিন মাদবর (২৩)। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অডিওতে রবিনকে টাকার পরিমাণ কমানোর জন্য অনুরোধ করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে এএসআই নাজিমকে ১ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে ৭০০ টাকা দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। রবিনের দাবি, দীর্ঘ সময় অনুরোধ ও দরাদরির পর শেষ পর্যন্ত তিনি ৭০০ টাকা দেন।
রবিন মাদবর বলেন, তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করার পর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া এএসআই নাজিম তাকে ফোন করে থানায় যেতে বলেন।
পরে থানায় গিয়ে কথোপকথনের সময় নিজের মোবাইল ফোনে অডিও রেকর্ড করেন তিনি।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথনের পাশাপাশি এএসআই নাজিমের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে।
তবে টাকা দাবি ও নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই নাজিম আহম্মেদ। তার দাবি, রবিনের বাবার ভোটার পরিচয়পত্র ও বিদ্যুৎ বিলের কাগজপত্র ছিল না। সেগুলো নিয়ে আসতে বলেছিলেন তিনি। টাকা চাওয়া বা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি।’
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘এএসআই নাজিম আহম্মেদকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









