নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফাটল ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাটল ধরা অংশের মাটি সরে গিয়ে কয়েকটি স্থান দেবে যায়। দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে হঠাৎ করেই সড়কটিতে ফাটল দেখা দেয়।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের সোনারগাঁ অংশভুক্ত সিংলাব-পাকুন্দা এলাকার আন্ডারপাসের পূর্ব পাশের সড়কে ফাটল দেখতে পান পথচারীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কের নিচের মাটি ধসে সৃষ্টি হয় বড় গর্তের। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই পথে দূরপাল্লার ও স্থানীয় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিকল্প হিসেবে আন্ডারপাসের পশ্চিম পাশের সড়ক দিয়ে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সড়ক নির্মাণ কাজের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ৩ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এই ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে। বিগত সরকারের আমলে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে নবনির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কী কারণে এমন ধস নামল, তা নির্ণয়ে কাজ করছেন প্রকৌশলী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মাটির গুণগত মান পরীক্ষা এবং কাজে কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে উদ্বোধনের আগেই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ফাটল ধরা ও দেবে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানটির দ্রুত সংস্কার করা না হলে পুরো আন্ডারপাস কাঠামোটিই ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বর্তমানে সড়ক ধসে পড়া অংশে বিকল্প পথে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা।
ঢাকা বাইপাস চার লেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলী বলেছেন, ‘‘টানা দুই থেকে তিন দিনের বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি নরম হয়ে যায়। এরপর ওই অংশ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় নরম মাটি সরে গিয়ে ফাটল ও বসে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।’’
তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প সড়ক তৈরি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ড্রিল করে মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









