বাংলার মাটি, মানুষের ভালোবাসা, শেকড়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করতে ঢাকার নবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘শরৎকালীন নাড়ু উৎসব ২০২৬’।
আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ‘মাটির সংস্কৃতি ধরে রাখবো আমরা, ছড়িয়ে দেব সারা বিশ্বে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নবাবগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বসবে এ উৎসব। বিকেল ৪টায় শুরু হবে দিনব্যাপী আয়োজন।
আয়োজকদের ভাষ্য, বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং মানুষের মিলনমেলাকে একসূত্রে আনতেই প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজন করা হয়েছে এ উৎসব। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার ‘নাড়ু’র মাধ্যমে শেকড়ের সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
উৎসবে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাড়ু প্রতিযোগিতা, সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী।
নাড়ু প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের তৈরি পর্যাপ্ত পরিমাণ নাড়ু নিয়ে আসতে হবে। প্রতিযোগিতায় নাড়ুর পরিচ্ছন্নতা, স্বাদ ও ডেকোরেশন বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রতিযোগীদের সঙ্গে নাড়ুর রেসিপিও জমা দিতে হবে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। অনুষ্ঠানস্থলে এসে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই পাবেন সার্টিফিকেট। আর প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার।
নাড়ু প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন রাহিমা সুলতানা রীতা, সেলেব্রিটি রন্ধনশিল্পী, কুলিনারি ও আয়ুর্বেদিক এক্সপার্ট এবং ইতি মিজান, ফুড অ্যান্ড কুলিনারি এক্সপার্ট।
উৎসবের উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি মাহমুদ আলী খান টুলু, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার ইয়াসিন খন্দকার।
এ ছাড়া বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারপার্সন তামান্না রহমানকে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থাকবেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খন্দকার, দপ্তর সম্পাদক ন্দকার মাহমুদ আরশীন এবং স্ক্রিপ্ট রাইটার সাদিয়া খালিদ রীতি।
এছাড়াও দেশের স্বনামধন্য উদ্যোক্তা, শেফ, লেখক, শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার গুণীজনরাও অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি অনলাইনে যুক্ত থাকবেন অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্য এবং উদ্যোক্তা অমৃতা দত্ত।
উৎসবে সভাপতিত্ব করবেন লতিফা রহমান লতা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নবাবগঞ্জ ললিতকলা একাডেমি (নাফা)। নাড়ু উৎসবের প্রবর্তক এবং অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও পরিচালনায় থাকছেন সায়মা রহমান তুলি, সাধারণ সম্পাদক, নাফা এবং প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, ইয়ারা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি শুধু একটি খাবারের উৎসব নয়; বরং বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, পারিবারিক ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যোগসূত্র তৈরির একটি প্রয়াস। নাড়ুর স্বাদ ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে বাংলার সংস্কৃতিকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
‘এসো, নাড়ুর স্বাদে শেকড়ের গল্প বলি—এসো, বাংলার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিই’—এই আহ্বানেই অনুষ্ঠিত হবে এবারের শরৎকালীন নাড়ু উৎসব।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









