হবিগঞ্জে হামের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হাম আক্রান্ত মোট ১১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যদিও হাম ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ২০টি। তবে শয্যার চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর) পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ৩ হাজার ৯৮৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৭৬১ জন।
গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে ১০৩ জনকে। হঠাৎ করে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে মেঝে ও সিঁড়িতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিদিনই হাম রোগে আক্রান্ত মানুষ হাসপাতালে এসে ভর্তি হচ্ছে। অথচ মাত্র ২০টি শয্যা রয়েছে হাসপাতালে। যে কারণে রোগীদেরকে গাদাগাদি করে মেঝে ও সিঁড়িতে থাকতে হচ্ছে।
তারা অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তার ও নার্সদের সময় মতো পাওয়া যায় না। তারা কিছু হলেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলেন। এছাড়াও নার্সদের কাছে কিছু জানার জন্য দুইবার গেলে তারা কর্ণপাত করেন না। অনেক নার্সই আবার রোগীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।
যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বেশিরভাগ রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হক সরকার বলেন, ‘‘হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে বেশি রোগী থাকায় অনেক সময় তা হয়ে উঠে না।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









