বরগুনায় মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করার দায়ে বাদীকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলায় খালাস পাওয়া আসামিদের ৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাদীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরগুনার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তৃতীয় আদালতের বিচারক মো. রানা শেখ এ আদেশ দেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার ১০ নম্বর নলটোনা ইউনিয়নের শিয়ালিয়া গ্রামের মৃত আবদুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে মো. জালাল আহমেদ (৪৫) ৭১ শতক জমির ধান চুরি ও মারধরের অভিযোগে একই এলাকার মো. খালেক হাওলাদারসহ আটজনকে আসামি করে ২০২৫ সালে আদালতে একটি সিআর মামলা করেন।
মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত দেখতে পান, যে জমির ধান চুরির অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, সেই জমিতে বাদী নিজের মালিকানা ও দখল কোনোটিই প্রমাণ করতে পারেননি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বাদীর বাবা আবদুল মজিদ হাওলাদার জীবদ্দশায় বিভিন্ন নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমির কিছু অংশ বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাদী ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসামিদের বিরুদ্ধে ধান চুরির অভিযোগ আনেন। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন।
একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে জমির মালিকানা ও দখল প্রমাণ করতে না পারায় বাদীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ২৫০(২) ও ২৫০(৫) ধারায় কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন আদালত।
পরে বাদী সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় আদালত তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন এবং খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের ৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
বরগুনার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, তৃতীয় আদালতের পেশকার জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









