পিরোজপুরের নেছারাবাদে এক বিধবা নারীকে কুপ্রস্তাব, অর্থের প্রলোভন দেখানো এবং মধ্যরাতে ঘরের পেছনের দরজা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী ও স্থানীয় মাতবর মো. আবুল কালামের (৫২) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও দুই সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই নারী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে নেছারাবাদ থানায় বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
অভিযুক্ত পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামের বাসিন্দা। এলাকায় তিনি মাতবর হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। গত দুই মাস ধরে আবুল কালাম বিভিন্ন সময়ে তার বাড়িতে গিয়ে কুপ্রস্তাব দিতেন। সাংসারিকভাবে সহযোগিতার কথা বলে অর্থের প্রলোভন দেখানোর পাশাপাশি রাতে বাড়িতে আসতে চাওয়ার অভিযোগও করেছেন ওই নারী। প্রস্তাবে রাজি না হলে সামাজিকভাবে হেয় করা ও মানসম্মানের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ তার।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বাড়িতে রান্না করার সময় আবুল কালাম তাকে ডেকে হাতে ১০০ টাকার একটি নোট দিয়ে বলেন, ‘‘রাত ১২টার দিকে তিনি আসবেন, তাই যেন ঘরের পেছনের দরজা খোলা রাখা হয়।’’ ওই নারী টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত তার হাত ধরে টানাটানি করেন এবং জোর করে টাকা দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই দিন দিবাগত রাত ১২টার পর অভিযুক্ত তার বসতঘরের চারপাশে ঘোরাঘুরি করেন, তাকে ডাকাডাকি করেন এবং বেড়া ও দরজায় টানাটানি করেন। ভয়ে তিনি দরজা খোলেননি। পরে শ্বশুরকে ফোন করে ডাকলে তিনি বাড়িতে আসার বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত চলে যান বলে দাবি করেন ওই নারী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ‘‘আমার স্বামী নেই, ছোট দুটি সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাই। ভয়ে এত দিন মুখ খুলিনি। আমি ও আমার সন্তানরা নিরাপদে বাঁচতে চাই। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি যদি এভাবে হয়রানি করেন, তাহলে আমরা কার কাছে বিচার চাইব?’’
ভুক্তভোগীর শ্বশুর মো. হানিফ মিয়া জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পুত্রবধূর ফোন পেয়ে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়াকে ঘটনাটি জানান। তার ভাষ্য, তারা অসহায় মানুষ; এ ঘটনায় পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘‘ওই নারী ও তার শ্বশুর বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে তাদের বাড়িতে গিয়ে ঘটনা শুনেছি।’’ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও এ ধরনের অভিযোগ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম দাবি করেন, তিনি এলাকায় সালিশ করেন বলে তার অনেক শত্রু তৈরি হয়েছে। ওই নারী তার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছেন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









