ময়মনসিংহে সার কেলেঙ্কারীর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে জনপ্রতিনিধিদের। অবিলম্বে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তপূর্বক সার ডিলার নিয়োগে তালিভুক্ত হওয়া বিতর্কিত ফ্যাসিস্টদের ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ প্রশাসক এবং বিএনপি নেতারা। তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বলছে, নিয়ম মেনে সার ডিলার তালিকা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শর্ত অনুযায়ী অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে ৩ মাস পর্যালোচনা করে স্থায়ীকরণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর অভিযোগ, উপজেলার ৩ নম্বর সরিষা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমানের ভাইকে প্রশাসনিক কারসাজির মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন জড়িত। অবিলম্বে ফ্যাসিস্ট ঘনিষ্ট ও বিতর্কিতদের ডিলারশিপ বাতিল করতে হবে।
এছাড়াও সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে এ সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, ‘‘সারের লাইসেন্স দেওয়ার নামে অনৈতিক লেনদেন ও আওয়ামী লীগের লোকদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’’
সরিসা ইউনিয়নে লাইসেন্স বন্টনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘সরিসা ইউনিয়নের লাইসেন্স যখন আমাদের ত্যাগী লোকের বাইরে যায় আর ফ্যাসিস্টরা যখন সবাইকে ডিঙিয়ে লাইসেন্স পায়, তখন উপজেলা এবং জেলার সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।’’
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ‘‘আমার কাছে তার পক্ষে ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলার কারণ খুঁজে পাই। আমি সব জানি, এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাই নাই। কে কোথা থেকে কত পারসেন্ট টাকা নেয় তা আমি জানি। যতক্ষণ এর অফিশিয়াল উত্তর না পাবো, ঈশ্বরগঞ্জে কেউ কোনো মনোনীত লোক সারের লাইসেন্স নিবে না।’’
ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘‘আমাদের লোকেরা মামলা, হামলা খাবে আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সারের লাইসেন্স দিবেন তা হবে না। আমরা নিজের টাকায় থানায় গাড়ি কিনে দিবো, আর আপনারা ফ্যাসিস্টকে সাপোর্ট করবেন তা হবে না।’’
পোস্টের শেষ অংশে প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযানের দাবি জানিয়ে এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু লিখেন, ‘‘কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানো দরকার।’’
একই ধরনের অভিযোগ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ফেসবুক পোস্টে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘‘সম্প্রতি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ তাদের অনুগত কিছু ডিলার দিয়ে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। এমন প্রেক্ষাপটে সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নিলে সেখানেও হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ারসহ বিভিন্ন উপজেলার কিছু ইউনিয়নে ফ্যাসিস্ট দোসরদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিস্ট দোসরদের নাম স্থানীয় প্রশাসন ১নং ক্রমিকে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আমি কৃষি মন্ত্রণালযয়ের দায়িত্বশীল পর্যায়ে কথা বলে জেনেছি, স্থানীয় প্রশাসন যাদের নাম ১ নম্বর ক্রমিকে পাঠিয়েছে, মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে তাদেরকেই ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় তাদের নাম ১ নম্বরে গেলো? সরকার যে উদ্দেশে সারের নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সরকারের সেই মহৎ উদ্যোগকে কারা বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করল? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মীরা ফ্যাসিস্ট আমলে হামলা-মামলার শিকার হয়ে অবর্ণনীয় দুর্দশার মধ্য দিনযাপন করেছে, যোগ্যতা থাকার পরও তারা আপনাদের কলমের খোঁচায় বাদ যাবে আর ফ্যাসিস্টদের দোসর, বেইমানরা ডিলারশিপ পাবে? ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের দায় সেই সব লোকদের নিতে হবে না?’’
এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসাইনের নিজ উপজেলাতেও সার ডিলার নিয়োগে কেলেঙ্কারীর ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এবং সার ও বীজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘‘উপজেলা থেকে তালিকা যাছাই-বাছাই করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। এতে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঘাটতি থাকায় হয়তো কেউ বাদ পড়তে পারে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









