রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেন বড় ধরনের হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে মস্কো।
এমন সময় এ অভিযোগ এল, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা আবার শুরু করবে কিয়েভ। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সীমিত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মস্কোর দক্ষিণে রিয়াজান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ইউক্রেন বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েক ডজন ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে মস্কো। তবে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে তিন দিনের জন্য রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রেখেছিল ইউক্রেন। কিন্তু এ সময় রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে গেছে।’’ তাই আর হামলা বন্ধ রাখার প্রশ্ন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জেলেনস্কি বলেছিলেন, ‘‘মস্কোও মেনে চললে কিয়েভ এ সমঝোতায় রাজি।’’
কিন্তু তার অভিযোগ, প্রস্তাব ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া তা উপেক্ষা করে হামলা চালায়। এতে ইউক্রেনের কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার হামলা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়ে ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে পাল্টা হামলা বন্ধ করতে চাপ দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইউক্রেনকে বলেছেন, হামলা বন্ধ না করলে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান আটকে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্প গোয়েন্দা সহযোগিতা বন্ধ করার কথা অস্বীকার করেছেন।
ইউক্রেনের সামরিক প্রতিরক্ষায় মার্কিন আগাম সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাশিয়ার আকাশপথে হামলার আগাম তথ্য পেলে ইউক্রেনের বাহিনী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রস্তুত করতে পারে। পাশাপাশি ড্রোন পরিচালনা ও আকাশসীমা সুরক্ষায় দেশটির সামরিক বাহিনী স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল।
মঙ্গলবার স্টারলিংক সংযোগ ব্যবহার করে চলার সময় ড্রোনের গতিসীমা অপ্রত্যাশিতভাবে কমিয়ে দেওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়। বিষয়টি নিছক কারিগরি ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বিবিসিকে জানায়, সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্টারশিল্ডের চলন্ত অবস্থায় সংযোগ ব্যবহারের সুবিধা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিধিনিষেধ আরোপের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির জন্য নিজের দেশকে দায়ী করতে নারাজ জেলেনস্কি। তার অভিযোগ, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের চুক্তি কার্যত মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ জোগাবে। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দাম কমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তার মূল্য ইউক্রেনকে দিতে হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও জনপদে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জেলেনস্কির দাবি, এ সময়ে ৮৫০টির বেশি ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া।
ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইউরোপীয় নেতারা সক্রিয় হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে তাদের সম্মেলনেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্ব পেতে পারে।
এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য কিয়েভে হালকা বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা, রাশিয়ার অব্যাহত হামলা এবং জ্বালানি স্বার্থের টানাপোড়েনে ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সূত্র: বিবিসি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









