সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বৃদ্ধ দামুদর ঘোষ। তাঁর নামে প্রায় ১৫ বিঘা সম্পত্তি থাকার পরও ভাগ্যে জুটেছে চরম দুর্দশা। স্থানীয় প্রভাবশালী এনছাফ মাস্টার ও তাঁর ভাই হাচেন মোল্লাসহ প্রভাবশালীরা জাল দলিল করে তাঁর সম্পত্তি লিখে নিয়েছেন এবং নানা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন—এমন গুরুতর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অসহায় এই বৃদ্ধ।
নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তার আশঙ্কায় দীর্ঘদিন মুখ খুলতে সাহস না পেলেও গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে পোরজনা বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন দামুদর ঘোষ। এ সময় তিনি বিগত ৫০ বছর ধরে তাঁর ১৫ বিঘা সম্পত্তি কীভাবে বেদখল হয়ে আছে এবং প্রাণের ভয়ে কীভাবে নীরবে কষ্ট সহ্য করে চলেছেন, তা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধ দামুদর ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাঁকে হত্যা করে হিজলতলায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দেশত্যাগ করে ভারত চলে যেতে বলেন। সে সময় তিনি ভারতে না গেলেও প্রাণের ভয়ে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ ৩০ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রাদলের হয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে দেখেন, তাঁর সমস্ত পৈতৃক সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। সময়ের পরিক্রমায় বর্তমান দখলদাররা জাল দলিল তৈরি করে নিজেদের নামে জমির রেকর্ডও করে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, দামুদর ঘোষের যে সম্পত্তি তাঁর পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হওয়ার কথা ছিল, আজ সেই সম্পত্তি হারিয়ে তিনি নিঃস্ব। নিজের নামে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি থাকা সত্ত্বেও তার কোনো সুফল না পেয়ে এই বৃদ্ধ বয়সে তাঁকে জীবিকা নির্বাহের জন্য চায়ের দোকান চালাতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের এই জমিজমা নিয়ে বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তির জন্য অবশেষে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন দামুদর ঘোষ। পোরজনা মৌজায় তাঁর ১৫ বিঘা পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা পুনরুদ্ধার, ওয়ারিশিয়ান হিস্যা অনুযায়ী অংশ প্রাপ্তি এবং ভূমি রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে তিনি ৫৮ জনের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন। আদালতে দাখিল করা আরজিতে তিনি জমির রেকর্ডে অসংগতি, ওয়ারিশদের প্রাপ্য অংশ যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ না করা এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি ভোগদখল নিয়ে বিরোধের অভিযোগ এনে আইনগত প্রতিকার চেয়েছেন।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষে আব্দুল মজিদ দাবি করেন, দামুদর ঘোষ প্রায় ৫০ বছর আগেই জমি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তাঁরা ক্রয়সূত্রে গত ৫০ বছর ধরে এসব জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর মতে, এতদিন পর হঠাৎ করে দামুদর ঘোষ কিছু মানুষের কুপ্ররোচনায় পড়ে এই জমিগুলোর মালিকানা দাবি করে এলাকায় অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টি করছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









