চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার চাটমোহরে দ্রুত কমছে বর্ষার পানি। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রবি শস্য আবাদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। কোথাও জমি প্রস্তুতের কাজ চলছে, কোথাও চলছে বীজ বপনের পরিকল্পনা। অনুকূল আবহাওয়া, জমিতে পলি জমে উর্বরতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এ মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চলনবিলের কৃষকেরা সাধারণত বিনা চাষে রসুন আবাদ, সরিষা, পেঁয়াজ, ভুট্টা, গম ও শীতকালীন শাক-সবজি চাষে গুরুত্ব দেন। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় এসব ফসল আবাদের উপযোগী জমি প্রস্তুত করছেন তাঁরা। এ অঞ্চলের কৃষির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জমির উচ্চতা ও পানি নিষ্কাশনের পরিস্থিতি অনুযায়ী ফসল নির্বাচন।
রবি মৌসুমে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে চাটমোহরে রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমি। এ ছাড়া সরিষা ৮ হাজার ৪৫০, পেঁয়াজ ১ হাজার ৪৮০, ভুট্টা ১ হাজার ২৫০, গম ৩ হাজার ৭৫০, বোরো ধান ৯ হাজার ৬৫০ এবং শীতকালীন শাক-সবজি ১ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বর্ষার পানির সঙ্গে আসা পলি জমিতে জমা হওয়ায় মাটির উর্বরতা বেড়েছে। এতে বিভিন্ন ফসলের ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তুলনামূলক উঁচু জমিতে রসুন ও পেঁয়াজ, মাঝারি উচ্চতার জমিতে ভুট্টা ও গম এবং নিচু জমিতে সরিষা ও খেসারি ডালের আবাদ করা হয়। ইতোমধ্যে অনেক জমির প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
হান্ডিয়াল ইউনিয়নের চরনবীন গ্রামের কৃষক গোলজার হোসেন ও আব্দুল মান্নান বলেন, এবার বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় রবি শস্য, বিশেষ করে রসুনের ভালো আবাদ হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। বীজ, সার ও কীটনাশকের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে ফলনও ভালো হতে পারে।
ইউনিয়নভেদে ফসলের বৈচিত্র্য
কৃষি বিভাগ জানায়, চলনবিল অধ্যুষিত ছাইকোলা, হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া ও হরিপুর ইউনিয়নে পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, ভুট্টা, গম ও খেসারি ডালের আবাদ হয়ে থাকে। অন্যদিকে বর্ষার পানি থেকে মুক্ত উঁচু জমি রয়েছে এমন হরিপুর, ডিবিগ্রাম, মথুরাপুর, পার্শ্বডাঙ্গা, মূলগ্রাম ও ফৈলজানা ইউনিয়নে শীতকালীন শাক-সবজির আবাদ বেশি হয়।
এসব এলাকায় পুঁইশাক, কলমিশাক, লালশাক, ধনেপাতা, ডাঁটাশাক, পালংশাক, মুলা, গাজর, আলু, বেগুন, বরবটি, কাঁচা মরিচ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ওলকপি, শিম, লাউ, শসা ও করলাসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ করেন কৃষকেরা। এসব ফসল স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকের আয়েরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
বীজ-সারের সংকট নেই, মাঠে পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুন্তলা ঘোষ বলেন, “রবি শস্য চাষে বীজের কোনো সংকট নেই। স্থানীয় কৃষকদের সংরক্ষণে বীজ মজুত রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) থেকেও বীজ সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সারের চাহিদাপত্র জেলা পর্যায়ে দাখিল করা হয়েছে। কৃষকেরা সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করলে সারের সংকট হবে না।”
তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের সুষম সার ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা এবং বিশেষ করে জৈব সার ব্যবহারে সচেতন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যাওয়া, জমিতে পলি জমে উর্বরতা বৃদ্ধি এবং কৃষি বিভাগের প্রস্তুতিকে ঘিরে চাটমোহরে চলতি রবি মৌসুমে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদী উপজেলা কৃষি বিভাগ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









